ময়মনসিংহ মেডিকেলে সংঘর্ষ
নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে আহত মমেক শিক্ষার্থীকে দেখতে যান স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন © সংগৃহীত
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে (মমেক) ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহত আমানুল্লাহ মুয়াজের চিকিৎসার খোঁজ নিতে জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে যান তিনি। এ সময় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমিন ও পরিচালক (গবেষনা, প্রকাশনা ও কারিকুলাম উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মহিউদ্দিন মাতুব্বর উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ওই আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে যান। এ সময় নিন্সের নিউরোসার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. জয়নুল ইসলাম তাদেরকে রোগীর অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেন।
পরে স্বাস্থ্য শিক্ষার ডিজি, এডিজি ও পরিচালক একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারীকেও দেখতে যান।
আরও পড়ুন: নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে সংকটাপন্ন ছাত্রদল নেতাকে দেখতে গেলেন স্বাস্থ্যের ডিজি
উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে প্রতিপক্ষ গ্রুপের জুনিয়র কর্মীকে বাইকে তেল ভরতে নির্দেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন ছাত্রদল নেতা ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ মুয়াজ। এদিন রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগে তার জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। শনিবার সকালে বিশেষ ব্যবস্থায় হেলিকপ্টারযোগে তাকে ঢাকায় নিয়ে এসে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জানা গেছে, নিন্সের বিশেষজ্ঞ সার্জনরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তবে আঘাতের ধরণ গুরুতর জানিয়ে আমানুল্লাহ মুয়াজের অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন বলে তারা অভিমত প্রকাশ করেছেন। জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত তার চিকিৎসা সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মীকে বাইকে তেল ভরিয়ে আনার নির্দেশ থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ছাত্রদল নেতা সংকটাপন্ন
এদিকে একই ঘটনায় আহত আরেক ছাত্রদল নেতা মীর হামিদুর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া মীর হামিদুরের অনুসারী ও আমানুল্লাহ মুয়াজের মাথায় আঘাতকারী নাফিউল ইসলাম পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় ৭ দিনের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ প্রশাসন। অপরদিকে এ ঘটনায় নাফিউল ইসলাম ও কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে জাওয়াদ রুতাপকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংসদ। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান সোহানের নেতৃত্বে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সংগঠনটি।