মমেকে সংঘর্ষ
আহত ছাত্রদল নেতা আমানুল্লাহ মুয়াজকে দেখতে যান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইনসেটে আমানুল্লাহ মুয়াজ © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে (মমেক) ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত আমানুল্লাহ মুয়াজকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট (নিন্স) ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকরা তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতি হলেও যে কোনো সময় পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এদিকে তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে প্রতিপক্ষ গ্রুপের জুনিয়র কর্মীকে বাইকে তেল ভরে নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে মমেকের বাঘমারা ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহন আমানুল্লাহ মুয়াজকে আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। গুরুতর আহত আরেক ছাত্রদল নেতা মীর হামিদুর মমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমানুল্লাহ মুয়াজ মমেক এমবিবিএস তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি নিন্স হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) ১২ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে নিন্সের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী গিয়াস উদ্দিন আহমেদকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মীকে বাইকে তেল ভরিয়ে আনার নির্দেশ থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ছাত্রদল নেতা সংকটাপন্ন
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল আলম খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, চিকিৎসকরা এখন রিপিট সিটি স্ক্যান করবে। এর পরে এসেসমেন্ট করা হবে। আমরা এখান থেকে যে অবস্থায় পাঠিয়েছি, এখন তার চেয়ে মনে হয় কিছুটা ভাল। তবে নিউরোক্রিটিক্যাল পেশেন্ট, যে কোনো সময় ডিটারিওরেট (অবনতি) করে যেতে পারে। এই কারণে আমরা শুধু দোয়া করছি আজকে আল্লাহর কাছে, যেন আমাদের এই ছেলেগুলা ভাল হয়ে সুস্থ হয়ে ফিরে আসে, ক্যাম্পাসটা ভাল থাকে।
আরও পড়ুন: সংঘর্ষে স্থগিত ময়মনসিংহ মেডিকেলের ক্লাস-পরীক্ষা, দুই নেতাকে শাস্তি দিল ছাত্রদল
এদিকে শনিবার নিন্সে চিকিৎসাধীন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারীর চিকিৎসার খোঁজ নিতে হাসপাতালটিতে যান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। এ সময় আহত আমানুল্লাহ মুয়াজকেও দেখতে যান তিনি। একই সঙ্গে তার চিকিৎসার খোঁজ-খবরও নেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ মুয়াজকেও দেখতে যান মহাপরিচালক। তিনি আহত শিক্ষার্থীর শয্যাপাশে কিছু সময় অতিবাহিত করেন এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।’