প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মীকে বাইকে তেল ভরিয়ে আনার নির্দেশ থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ছাত্রদল নেতা সংকটাপন্ন

১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৩ PM , আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৪ PM
সংঘর্ষে গুরুতর আহত ছাত্রদল নেতা আমানুল্লাহ মুয়াজ ও ইনসেটে ছাত্রদলের লোগো

সংঘর্ষে গুরুতর আহত ছাত্রদল নেতা আমানুল্লাহ মুয়াজ ও ইনসেটে ছাত্রদলের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত

প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মীকে বাইকে তেল ভরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত এক ছাত্রদল নেতাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা সংকটাপন্ন। 

এর আগে, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে মমেকের বাঘমারা ছাত্রাবাসে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অপর ছাত্রদল নেতা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

পুলিশ, হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, নগরের বাঘমারা এলাকায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস। গতকাল সন্ধ্যায় মেডিকেল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহর অনুসারী আমানুল্লাহ মুয়াজ এক জুনিয়র কর্মীকে তার মটরসাইকেলের তেল ভরিয়ে নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দেন। ওই কর্মী সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপের অনুসারী মীর হামিদুরের ঘনিষ্ঠ। এই নির্দেশ দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে এই বিষয়টি নিয়ে আমানুল্লাহ মুয়াজ মীর হামিদুরের কক্ষে যান। সেখানে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মীর হামিদুর প্রথমে মুয়াজকে আঘাত করেন।

এরপর ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে রুম থেকে বের করে দেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে হামিদুর চা খেতে বাইরে গেলে স্টিলের পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে হামিদুরের পক্ষের সদস্যরা মুয়াজকে ধাওয়া করলে তিনি একটি কক্ষে ঢুকে আশ্রয় নেন। এরপর মুয়াজকে উদ্ধার করতে তার পক্ষের সদস্যরা এগিয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে আহত মুয়াজ ও হামিদুরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি অবনতি  হলে মুয়াজকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে এ ঘটনার পর আজ শনিবার একাডেমিক কাউন্সিল জরুরি সভা করে আগামী সাত দিনের জন্য সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করার পাশাপাশি আজ সকাল আটটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মোটরসাইকেলে তেল ভরার মতো ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত বলে তারা জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাত দিনের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাস ছেড়ে গেছেন— অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল আলম খান, অধ্যক্ষ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ

পরে এ ঘটনার জেরে দুই নেতাকে অব্যাহতি দিয়েছে ছাত্রদল। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নূর এ জাওয়াদ রুতাপকে তার সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাফিউল ইসলামকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থল থেকে জাওয়াদ রুতাপের অনুসারী নাফিউল ইসলাম (বিডিএস-১৪ ব্যাচ) নামের এক ছাত্রদল কর্মীকে গতকাল রাতে আটক করে পুলিশ। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, আটক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। তিনি বলেন, দুই বন্ধুর মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। মেডিকেল কলেজ ও ছাত্রাবাস এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহ মেডিকেলে ছাত্রদলের সংঘর্ষ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত

এ বিষয়ে ওসি তদন্ত রাজন পাল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আহত শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের অপেক্ষায় আছি তারা এসে জবানবন্দি দিলেই আমরা মামলার কার্যক্রম শুরু করবো। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজন পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল আলম খান বলেন, মোটরসাইকেলে তেল ভরার মতো ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত বলে তারা জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাত দিনের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাস ছেড়ে গেছেন।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনজন অধ্যাপককে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্কলারশিপে পড়াশোনার সুযোগ চীনের জিয়াংসু ইউনিভার্সিটিতে, আব…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
গাজীপুরে রিসোর্টে অভিযান: দেশি-বিদেশি মদ-মাদক উদ্ধার, গ্রেপ…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
হাম পরিস্থিতিকে মহামারি ঘোষণার দাবি ডিপিপিএইচের
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
দুই কারণে পেছানো হলো এইচএসসি পরীক্ষা
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ১৩ পদের সাতটিতেই জয়ী আওয়াপন্থিরা
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে তোপের মুখে ট্রাম্প
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬