স্বাস্থ্য অধিদপ্তর © টিডিসি ছবি
বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে চিকিৎসকের একক স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করে জারি করা পূর্বের বিতর্কিত নির্দেশনাটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল রবিবার (১৭ মে) অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগকে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। চিঠিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান সই করেছেন।
মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি জারি করা নির্দেশনার ১ ও ৫ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী ল্যাব রিপোর্টে বিএমডিসি নিবন্ধিত মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট, প্যাথলজি বা রেডিওলজি বিশেষজ্ঞের স্বাক্ষরের কথা বলা হয়েছিল। তবে সেখানে নন-মেডিকেল বায়োকেমিস্টরা স্বাক্ষর করতে পারবেন না— এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নন-মেডিকেল বায়োকেমিস্টরা রিপোর্টে সই করতে পারলেও প্রতিটি রিপোর্টে স্বাক্ষরকারী বা প্রতিস্বাক্ষরকারী হিসেবে অবশ্যই একজন বিএমডিসি নিবন্ধিত মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটের স্বাক্ষর থাকতে হবে।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক ও ল্যাবগুলোর সেবার মান নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা জারি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেখানে বলা হয়েছিল, প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স আবেদনে উল্লিখিত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের সশরীরে নিজ হাতের স্বাক্ষর থাকতে হবে।
এছাড়া কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক বা অনলাইন ডিজিটাল স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য হবে না, অটো-জেনারেটেড রিপোর্ট যাচাই করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বাক্ষর নিতে হবে এবং ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানার বাইরে কোনো বুথ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা যাবে না বলেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল।
ওই সময় রিপোর্টে চিকিৎসকের একক স্বাক্ষরের এই নীতিকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানান দেশের বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকিউলার বায়োলজিস্টরা। তাদের দাবি ছিল, দীর্ঘদিনের স্বীকৃত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ল্যাব ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে এই একক নীতি বাস্তবায়ন করা হলে দেশের রোগ নির্ণয় ব্যবস্থার গুণগত মান মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পরবর্তীতে এই নির্দেশনার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টস’ (বিএসিবি) হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করে। এর প্রেক্ষিতে আদালত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত করে দেয়। আদালতের এই স্থগিতাদেশের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি ও পেশাজীবীদের অনিশ্চয়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসে নির্দেশনাটি সংশোধন করল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।