গত ৫ এপ্রিল দেশে জরুরি হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয় © সংগৃহীত
উচ্চ সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ শিশুকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২০ মে এই জরুরি টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এরই মধ্যে গত ৫ এপ্রিল থেকে অদ্যাবধি এক কোটি ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৭৬ শিশুকে টিকা দেওয়া শেষ হয়েছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৬ হাজার ৯১৪ জন।
আজ সোমবার (১১ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, মার্চে হঠাৎ হামের প্রাদুর্ভাব বাড়লে জরুরি ভিত্তিতে গত ৫ এপ্রিল টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করে সরকার। প্রথমে উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন ৩০টি উপজেলায় এই কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ১২ এপ্রিল দেশের চার সিটি কর্পোরেশনে এই ক্যাম্পেইন শুরু হয়। ২০ এপ্রিল সারাদেশে বিস্তার করে ক্যাম্পেইন।
তথ্য বলছে, গত ৫ এপ্রিল শুরু হওয়া ক্যাম্পেইনে গতকাল রবিবার পর্যন্ত সারাদেশে মোট ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯০৬ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এ হিসেবে শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন: হামে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক আক্রান্ত-মৃত্যুর পার্থক্য কী?
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল থেকে বরিশালে ১০ লাখ ৪৭ হাজার ২২১, চট্টগ্রামে ৪২ লাখ ৬৮ হাজার ২৯, ঢাকায় ৪৪ লাখ ৬০ হাজার ৮২০, খুলনায় ১৬ লাখ ২ হাজার ৪১৯, ময়মনসিংহে ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৪, রাজশাহীতে ২০ লাখ ৯০ হাজার ২৮৯, রংপুরে ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৩৫১ এবং সিলেটে ১২ লাখ ৮০ হাজার ৪২৩ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
সিটি কর্পোরেশনভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বরিশালে ৪৩ হাজার ২৬৮, চট্টগ্রামে ২ লাখ ৭৫ হাজার ২৩২, কুমিল্লায় ৪৭ হাজার ৮৬৩, ঢাকা উত্তরে ৫ লাখ ৩ হাজার ৩৩২, ঢাকা দক্ষিণে ৪ লাখ ১ হাজার ২৭৮, গাজীপুরে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩৪, নারায়ণগঞ্জে ৭৮ হাজার ৬৪৯, খুলনায় ৮৬ হাজার ৭৭৫, ময়মনসিংহে ৫৪ হাজার ৮৪২, রাজশাহীতে ৫৭ হাজার ৩৭০, রংপুরে ৭৭ হাজার ৭৪৭ এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনে ৬২ হাজার ১৫৯ জন শিশু টিকার আওতায় এসেছে। এ নিয়ে ১২ সিটি কর্পোরেশনের মোট ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ৪৪৯ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এ হিসেবে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট ক্যাম্পেইন কাভারেজ ৯৮ শতাংশ। তুলনামূলক কম টিকা কাভারেজ হয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে, ৯০ শতাংশ।
আরও পড়ুন: অর্ধেক খরচে দেশেই উৎপাদন হবে হাম-ডেঙ্গু ও জলাতঙ্কের টিকা
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, আগামী ২০ মে পর্যন্ত সারাদেশে এই টিকা কার্যক্রম চলবে। এ সময়ে আরও কিছু শিশু টিকার আওতায় আসবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, টিকার আওতায় আসার মতো শিশুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বাড়লে তারা টিকা নেবে। আগামী ২০ তারিখ পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইন চলবে।