রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আসামির আইনজীবী হওয়ার কারণ জানালেন মুসা, বিচার চান নিজেও

০৪ জুন ২০২৬, ০৯:০১ AM , আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:০১ AM
আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ

আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ © সংগৃহীত

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে কোনো পক্ষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেননি বলে দাবি করেছেন রাষ্ট্র নিয়োগপ্রাপ্ত স্টেট ডিফেন্স লয়ার মুসা কালিমূল্যাহ। তিনি বলেন, আসামি সোহেল রানা, তার স্ত্রী বা পরিবারের কোনো সদস্যের কাছ থেকে এ মামলার জন্য আমি ‘১০ পয়সাও’ নেননি। এমনকি অন্য কোনো পক্ষ থেকেও কোনো ধরনের পারিশ্রমিক গ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না।

গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এই মামলা পরিচালনা করার জন্য আসামি সোহেল রানা বা তার স্ত্রী বা তাদের পরিবারের কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে আমি এখন পর্যন্ত ১০ পয়সা নিয়েছি বলে কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। শুধু আসামি পক্ষ না, অন্য কোনো পক্ষ থেকেও আমি এ মামলায় ১০ পয়সা নিয়েছি বলে কেউ বলতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এ মামলায় আসামিপক্ষ হয়ে কোনো আইনজীবী দাঁড়াবেন না বলে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে তাকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে নয়, বরং সরকার স্টেট ডিফেন্স লয়ার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। আমাকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে এই মামলা পরিচালনার জন্য নিয়োগ করা হয়নি। বাংলাদেশ সরকার আমাকে এ মামলায় স্টেট ডিফেন্স লয়ার হিসেবে নিয়োগ করেছে। আমি সরকারের নিযুক্ত আইনজীবী। আমি নিজেও ধর্ষণের বিচার চাই। আমি কোনো পক্ষের নই, ন্যায়বিচারের পক্ষে। আমি চাই সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। আমার নিজের কন্যা আছে, স্ত্রী আছে, বোন আছে; আমার সমাজ আছে, দেশ আছে। আমি তো এই দেশ বা সমাজের বাইরে নই।’

স্টেট ডিফেন্স লয়ার নিয়োগের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দেশের সংবিধান, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক বিচারনীতি ও মানবাধিকার আইনের বিধান অনুযায়ী, যে মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেখানে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়। অন্যথায় বিচার কার্যক্রমই শুরু করা সম্ভব নয়। আমি বা অন্য কোনো স্টেট ডিফেন্স লয়ার নিয়োগ না হলে এই মামলার বিচার কার্যক্রম শুরুই করা যেত না। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিলে বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যেত, দেশেও এবং আন্তর্জাতিক পরিসরেও।

আরও পড়ুন: মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার নিয়ে যা বললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে

তিনি আরও বলেন, সরকার চায় দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার বিচার সম্পন্ন হোক এবং অপরাধীরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। সেই লক্ষ্যেই বিচার প্রক্রিয়া সচল রাখতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমি অপরাধীর পক্ষে না, ভুক্তভোগীর পক্ষেও না। আমি ন্যায়বিচারের পক্ষে। আমার নিজের কন্যা আছে, স্ত্রী আছে, বোন আছে। আমি সমাজের বাইরে নই। আমি বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য একজন সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।’

এই আইনজীবী বলেন, বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় যেমন রাষ্ট্রপক্ষের জন্য পাবলিক প্রসিকিউটর থাকে, তেমনি আসামিপক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে আইনজীবী নিয়োগেরও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর কোনো আইনজীবী না থাকলে রাষ্ট্র নিজ দায়িত্বে স্টেট ডিফেন্স লয়ার নিয়োগ করে। আমি রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত স্টেট ডিফেন্স লয়ার হিসেবে আদালতে আমার দায়িত্ব পালন করছি। বিচার সম্পন্ন করার জন্য আইনে যে ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়েছে, আমি কেবল সেই ভূমিকাই পালন করছি।

বিনা খরচে ৪০০ জনকে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেবে বিআরটিসি, লাইসেন…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
মুক্তির একদিন আগে দিনাজপুর কারাগারে কয়েদির মৃত্যু
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
বিইউবিটিতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক সেম…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
বিসিবির নতুন দায়িত্বে রাবিদ ইমাম
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
বিএনপির পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
ওমানের আকাশসীমার মৃত সেই নারীর লাশ দেশে ফিরছে দূতাবাসের মাধ…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬