ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত © সংগৃহীত
ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে কারাগারে নেওয়ার সময় এক আসামিকে স্বজনদের দেওয়া একটি পাউরুটির প্যাকেট থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২ আগস্ট) মামুন নামে ওই আসামিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে তোলা হয়। হাজিরা শেষে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, কারাবন্দি এক আসামির কাছে থাকা একটি পাউরুটির প্যাকেট থেকে ইয়াবা ও গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। পাউরুটির ভেতরে কাগজে মোড়ানো তিনটি ছোট গাঁজার পুরিয়া এবং তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। প্যাকেটটি আসামির স্বজনেরা দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য।
দায়িত্বরত কনস্টেবল শাহেদুর রহমান জানান, সেদিন তার দায়িত্ব ছিল সিএমএম কোর্টের ষষ্ঠ তলার ১১ নম্বর আদালতে। হাজিরা শেষে আসামিকে কারাগারে নেওয়ার সময় তৃতীয় তলায় পৌঁছালে আসামির পাঁচজন স্বজন তাকে একটি পাউরুটির প্যাকেট দেন।
তিনি বলেন, হাজতখানায় বাইরে থেকে খাবার নেওয়ার অনুমতি নেই। তাই প্রথমে তিনি প্যাকেটটি নিতে দিতে চাননি। কিন্তু স্বজনরা এ নিয়ে জোরাজুরি করেন এবং কয়েকজন মিলে চাপ সৃষ্টি করে আসামির হাতে পাউরুটির প্যাকেট তুলে দেন।
কনস্টেবল শাহেদুর রহমান বলেন, তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি প্যাকেটটি পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন। পরে হাজতখানার গেটের কাছে পাউরুটির প্যাকেটটি রেখে দেওয়া হয়। তিনি আসামিকে রেখে আদালতে ফিরে যান। পরে জানতে পারেন, পাউরুটির ভেতর থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল বলেন, আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় আসামির স্বজনরা খাবার দেওয়ার জন্য জোরাজুরি করছিলেন। মানবিক বিবেচনায় কনস্টেবল একটি পাউরুটি নিতে দেন।
তিনি বলেন, প্রাথমিক তল্লাশিতে কোনো সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। কারণ তখন কারও ধারণা ছিল না যে পাউরুটির ভেতরে মাদক লুকিয়ে রাখা হতে পারে। পরে আবার পরীক্ষা করে পাউরুটিতে একটি ছোট ছিদ্র দেখা যায়। সেটি খুঁটিয়ে দেখার পর ভেতর থেকে তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট ও তিনটি ছোট গাঁজার পুরিয়া উদ্ধার করা হয়।
ডিসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানান, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফুটেজ দেখে কারা খাবারটি দিয়েছিল, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে আসামিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।