টিকা দেয়ার ফলে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে: স্বাস্থ্য ডিজি

১৩ মে ২০২৬, ০৬:১১ PM
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস ব্রিফিং

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস ব্রিফিং © সংগৃহীত

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেছেন, প্রথম পর্যায়ে টিকাদানের ফলে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। প্রতিটি শিশুর জীবন অমূল্য এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার (১৩ মে) দুপুরে হাম নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাংলাদেশেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও অত্যন্ত স্বল্প সময়ে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন সরকারের শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

ডিজি বলেন, ক্যাম্পেইনের প্রথম পর্যায়ে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় শুরু হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী প্রতিটি এলাকায় এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ করা যায়।

ডিএইচআইএস-২-এর সর্বশেষ তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে ইতোমধ্যে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে, যা আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, প্রথম পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

আরও পড়ুন: সরকারকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ পোলিও টিকা দিল চীনের সিনোভ্যাক

অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণের পর শরীরে রোগ প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে। সে কারণে আমরা আশাবাদী যে, শীঘ্রই দেশে গ্রামের সংক্রমণ কমে আসবে। আমি সকল অভিভাবকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যেসব শিশু এখনও টিকা পায়নি, এমনকি যারা নিয়মিত ইপিআইয়ের আওতায় দুই ডোজ হাম রুবেলা টিকা পেয়েছে, তারাও যেন এই ক্যাম্পেইনের আওতায় হাম রুবেলা টিকা গ্রহণ করে’—জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

নির্ধারিত বয়সসীমার অনেক শিশু এখনও টিকাদানের আওতার বাইরে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, হাম নির্মূল ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরই লক্ষ্যে আমরা র‌্যাপিড কনভেনিয়েন্স মনিটরিং (আরসিএম) অ্যাপের মাধ্যমে টিকাবঞ্চিত শিশুদের শনাক্ত করে তাদের টিকার আওতায় আনার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দেশব্যাপী পোস্টার, লিফলেট, ইনফোগ্রাফিক, উদ্বুদ্ধমূলক ভিডিও বার্তা, টক শো এবং টেলিভিশন স্ক্রলিংয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিশেষ সান্ধ্যকালীন টিকাদান সেশন, শুক্রবারভিত্তিক বিশেষ সেশন এবং সুবিধাবঞ্চিত ও দুর্গম এলাকার শিশুদের জন্য মোবাইল টিকাদান টিম গঠনের মাধ্যমে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের ৯ মাস ও ১৫ যান। বয়সে প্রদেয় হাম-রুবেলা টিকাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সকল টিকার সরবরাহ ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে নিশ্চিত করা হচ্ছে।

দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে সরকার বৃহৎ পরিসরে ভ্যাকসিন সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইউনিসেফের সহায়তায় ১০টি ভিন্ন ধরনের প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডোজ জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইতোাস্থ্য মে মাস থেকেই বড় পরিসরে এই ভ্যাকসিন দেশে আনা শুরু হয়েছে। 

আরও পড়ুন: হামের চিকিৎসায় সরকারকে ১০টি ভেন্টিলেটর দিল রেডিয়েন্ট

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩ মে থেকে এ পর্যন্ত দেশে গৌঁছেছে—বিসিজি ভ্যাকসিন দুই লাখ ৭৪ হাজার ভায়াল, ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন (ওপিভি) এক লাখ ৪০ হাজার ভায়াল, হাম-রুবেলা (এমআর) ভ্যাকসিন ছয় লাখ ৪৫ হাজার ডায়াল, আইপিভি (আইপিভি) এক লাখ ৩৬ হাজার ৮১৬ ভায়াল, পেনটা (পেনটা) দুই লাখ ৪৫ হাজার ৪৫০ ভায়াল, টিডি (টিডি) ভ্যাকসিন ৩ লাখ ৫ হাজার ভায়াল। 

বর্তমানে টাইফয়েড ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধী এইচপিভি ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, নতুন এই সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার ফলে আগামীতে দেশে কোনো ধরনের ভ্যাকসিন সংকট থাকবে না। ধারবাহিকভাবে চলতি মাসজুড়ে আরও ভ্যাকসিন আমাদের সাপ্লাই চেইনে যুক্ত হবে, যা জাতীয় টিকাদান বার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে। এত স্বল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ ভ্যাকসিন দেশে আনা পূর্বে কখনো সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় সরবচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন: যক্ষ্মা চিকিৎসায় এক কোটি ৭০ লাখ অ্যান্টি-টিবি ওষুধ কিনবে সরকার

অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সরকার নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ও হ্রাম নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আমরা সকল সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিতে কাজ চলছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অবশ্যই হাম নিয়ন্ত্রণে সফল হবো এবং আমাদের শিশুদের নিরাপদ রাখতে পারব।

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী, পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান, পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদসহ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচওর  প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষকের মারধরে জ্ঞান হারাল ছাত্র, বাড়িতে জানালে পরীক্ষায় ফ…
  • ১৩ মে ২০২৬
শিক্ষকদের বকেয়া বেতন নিয়ে চিঠি, যা বলছে মন্ত্রণালয়
  • ১৩ মে ২০২৬
যে উপাচার্যের প্রশাসন নেই
  • ১৩ মে ২০২৬
তারকা ফুটবলারকে ছাড়াই বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা সুইডেনের
  • ১৩ মে ২০২৬
অপরিপক্ক আম বিক্রির হিড়িক: বাইরে চকচকে খোসা, ভেতরে কাঁচা
  • ১৩ মে ২০২৬
চার শতাধিক চিকিৎসককে নিয়ে এলএসবির ম্যারাথন
  • ১৩ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9