বিএমইউতে বিশ্ব ল্যাবরেটরি দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বিএমইউ উপাচার্যসহ অতিথিরা © সংগৃহীত
র্যালি, ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, পোস্টার ও স্টল প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিশ্ব ল্যাবরেটরি দিবস উদযাপন করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ‘বায়োমেডিকেল ল্যাবরেটরি সায়েন্টিস্টস: প্রোমোটিং সাসটেইনেবিলিটি ইন ক্লিনিক্যাল ডায়াগনস্টিকস’— প্রতিপাদ্যে দিবসটি উদযাপিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, একটি হাসপাতালের মান অনেকাংশেই নির্ভর করে তার ল্যাবরেটরি সেবার মানের ওপর। রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ল্যাবরেটরি সার্ভিসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিএমইউ উপাচার্য ল্যাবরেটরি সেবার গুণগত মান বজায় রাখা, দ্রুত ও নির্ভুল রিপোর্ট প্রদান এবং আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে মহামারি বা সংক্রামক রোগের সময় জনসচেতনতা তৈরিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয়ের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বিএমইউকে এমন একটি আধুনিক রেফারেল ল্যাবরেটরি সেন্টার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দেশের সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে, এমনকি যেসব টেস্ট দেশের অন্য কোথাও হয় না সেগুলোও এখানে চালু করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: দিনদুপুরে ৬ ট্রাকে কয়েক কোটি টাকার মাল চুরি, নেপথ্যে প্রকৌশল-পরিচালক দপ্তর
বিশেষ অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, উন্নত চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য আধুনিক ল্যাবরেটরি ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমইউর বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিন ও সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন ল্যাবরেটরি সেবার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় টেস্ট সংক্রান্ত মতামত নিয়ে সে অনুযায়ী সেবা উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।
বিএমইউ ল্যাবরেটরি সার্ভিস কমিটির সদস্য সচিব ডা. এ এস এম নওরোজ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি বিভাগ প্রতিদিন হাজার হাজার রোগীর পরীক্ষা সম্পন্ন করছে এবং প্রতিদিন অন্তত পাঁচ হাজার টেস্ট করা হয়। তবে সেবার পরিধি বাড়াতে প্রয়োজনীয় জায়গা ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে বিএমইউর বটতলা থেকে একটি র্যালি বের করা হয়, যা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে শহীদ ডা. মিলন হলে ডকুমেন্টারি, পোস্টার ও স্টল প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামালসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।