স্বাস্থ্যসেবায় বিএমইউ হবে এশিয়ার সেরা ইনোভেশন হাব

১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৫ PM
ইনোভেশন হাব নিয়ে ওরিয়েন্টেশন সেশন

ইনোভেশন হাব নিয়ে ওরিয়েন্টেশন সেশন © সংগৃহীত

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) প্রথমবারের মত ইনোভেনশন হাব নিয়ে ওরিয়েন্টেশন সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিএমইউর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবায় বিএমইউকে এশিয়ার সেরা ইনোভেশন হাবে উন্নীত করার এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তার বক্তব্যে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও অ্যাডভান্সড ইন্টেলিজেন্ট মাল্টিডিসিপ্লিনারি সিস্টেমস ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. খন্দকার এ. মামুন ইনোভেনশন হাব প্রতিষ্ঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক রূপান্তর এবং একটি কার্যকর ইনোভেনশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ইউআইইউতে প্রতিষ্ঠিত ইনোভেশন হাবের অভিজ্ঞতা এই ক্ষেত্রে একটি সফল ও কার্যকর মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেন তিনি।

অধ্যাপক ড. খন্দকার এ. মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হল ইনোভেনশন ইঞ্জিন। ইনোভেশনকে সফল করতে হলে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ১০টির মধ্যে একটি সফল হলেও ৯টির ক্ষতি পুষিয়ে যাবে। আইডিয়াকে ইনকিউভেট করার এখনই শ্রেষ্ঠ সময়। রিসার্চ, ইনোভেনশন, ইনকিউভেশন, কমারশিয়ালাইজেশন— এ পদ্ধতিতে এগিয়ে যেতে হবে। এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে বর্তমানে ফান্ডের চাইতে বেশি প্রয়োজন সহায়তার। বিশ্ববিদ্যালয়ের একদিকে থাকবে লাইব্রেরি আর এর সাথে থাকতে ইনোভেনশন হাব।

আরও পড়ুন: এক বছরে ৪ বৈশ্বিক অর্জন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের

তিনি বলেন, বিএমইউতে যে পরিমাণ রোগী, প্রশিক্ষণের ও উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে তা প্রতিদিনই নিত্যনতুন ইনোভেনশনের আইডিয়া তৈরি হচ্ছে। এই অবারিত অসংখ্য সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। বিএমইউর ইনোভেনশন হাব হবে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ। স্বাস্থ্যখাতে এশিয়ার শ্রেষ্ঠ হাবে উন্নীত হবে এই বিএমইউ। ভবিষ্যতে এআইয়ের সঠিক ব্যবহার এবং ইনোভেনশন হাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিএমইউর উদ্ভাবিত নিত্য-নতুন উদ্ভাবনসমূহ শুধু দেশে নয় বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আই-হাব এক্সিকিউটিভ বডির চেয়ারপারসন ও বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে একটি শক্তিশালী ইনোভেনশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উপাচার্য বলেন, ডেটা সংরক্ষণ ও রোগীর রেকর্ড রাখা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান যুগে অথেনটিক ডেটা মূল্যবান সম্পদ। এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিএমইউ এর শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যখাতে উদ্ভাবনভিত্তিক জগতে বিরাট অবদান রাখবে সেই প্রত্যাশা করি।

ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান ও আই-হাব আরঅ্যান্ডডি লিড অধ্যাপক ডা. এম এ শাকুর বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে হবে বিএমইউ।

অনুষ্ঠানে একটি প্রাণবন্ত ইন্টার‌অ্যাক্টিভ আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইনোভেশন, ইনকিউবেশন, মেন্টরশিপ এবং কমার্শিয়ালাইজেশনের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় জানানো হয়, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে এই ইনোভেশন হাবকে একটি ‘সেন্টার ফর এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতে উদ্ভাবন ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগটি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে, যা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রামের সাথে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের আগস্টে বিএমইউতে আই-হাব-জিআই অপারেশনাল গাইডলাইন প্রেরণ করা হয় এবং সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন হাবের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে একটি নির্বাহী কাঠামো গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুলিতে যোগ হল আরেক বিদেশি স্বীকৃতি

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, মেডিকেল টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এম আবু হেনা চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, আই-হাব নির্বাহী কাঠামোর মডারেটর ফিজিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. তাসকিনা আলী, কো-মডারেটর বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবা উন নাহার, আই-হাব ক্যাপ্টেন ও শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেসমিন মোরশেদ, আই-হাব কো-ক্যাপ্টেইন ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. খালেদ মাহবুব মোরশেদ, কমিউনিকেশন লীড অবস অ্যান্ড গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রিফাত রহমান প্রমুখ।

বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেতে থানায় আশ্রয় এসএসসি পরীক্ষার্থীর
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
স্বাস্থ্যখাত এখন একটি ডিজাস্টার, হাসপাতাল না বলে বাজার বলা …
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
নিম্নমানের কয়লা আমদানি নিয়ে তোলপাড়, পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কা…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রিমিয়ার লিগে দলবদল করলেন ৭৯ ক্রিকেটার, কে কোন দলে?
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
এসএসসি পরীক্ষার কন্ট্রোল রুম চালু, যোগাযোগের নম্বর দেখুন এখ…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬