প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
দেশের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজসমূহের এন্ট্রি লেভেলে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য একটি যৌক্তিক, সমন্বিত ও সম্মানজনক বেতন কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার । এই লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে । আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) মন্ত্রণালয়ের চিকিৎসা শিক্ষা-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সঞ্জীব দাশ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয় ।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এই কমিটির আহ্বায়ক এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালককে (মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) সদস্য সচিব করা হয়েছে । কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্মসচিব (বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা), স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্মসচিব (চিকিৎসা শিক্ষা), স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) । তবে কাজের সুবিধার্থে কমিটি প্রয়োজনে যেকোনো সদস্যকে কো-অপ্ট করতে পারবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে ।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ৮ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকদের উপস্থিতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও পোস্ট গ্রাজুয়েট চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দলের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় । ওই সভার যৌথ বিবৃতির সিদ্ধান্তের আলোকেই বেসরকারি খাতের চিকিৎসকদের বেতন বৈষম্য দূর করতে এই কমিটি গঠন করা হলো ।
গঠিত এই কমিটিকে তিনটি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । প্রথমত, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজসমূহের এন্ট্রি-লেভেলে কর্মরত চিকিৎসকদের বিদ্যমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাসমূহ পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা । দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণপূর্বক এন্ট্রি-লেভেলের চিকিৎসকদের জন্য একটি যৌক্তিক, সমন্বিত ও সম্মানজনক বেতন কাঠামোর খসড়া প্রণয়ন করা । এবং তৃতীয়ত, এই প্রণীত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন আগামী ২০ (বিশ) কার্যদিবসের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব বরাবর দাখিল করা ।
বেসরকারি চিকিৎসা খাতের মানোন্নয়ন এবং তরুণ চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের আর্থিক অসন্তোষ দূর করতে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।