যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ১৯ দিন বাকি। এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নেবে। তবে, এরই মধ্যে ২০৩০ বিশ্বকাপকে ৬৪ দলের আসরে রূপ দেওয়ার প্রস্তাব ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কিন্তু ফুটবল বিশ্বের অধিকাংশ পরাশক্তি ও মহাদেশীয় কনফেডারেশনের বিরোধিতার মুখে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে পড়ছে।
গত বছরের এপ্রিলে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬৪ দলের বিশ্বকাপের প্রস্তাব তুলেছিল দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল সংস্থা কনমেবল। পরে সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন কনমেবলের প্রতিনিধিরা। তখন ধারণাটিকে আকর্ষণীয় বলে মন্তব্য করলেও বিষয়টি পর্যালোচনার কথা জানিয়েছিলেন ইনফান্তিনো।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে উয়েফাসহ প্রায় সব মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থাই। এমনকি প্রস্তাবদাতা কনমেবলের ভেতরেও কয়েকটি বড় ফুটবল ফেডারেশন ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
সম্প্রতি মাদ্রিদে আতলেতিকো মাদ্রিদের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় রেখে বর্তমান ফুটবল সূচিতে আর কোনো বাড়তি চাপ যোগ করার সুযোগ নেই। বরং ম্যাচের সংখ্যা কমানোর পক্ষেই মত দিয়েছেন তিনি। মার্কার বিভিন্ন কনফেডারেশনের নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, আপাতত প্রস্তাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে ৬৪ দলের বিশ্বকাপের পরিকল্পনা।
এর আগেও প্রতি দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের ফিফার প্রস্তাব ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। বিশেষ করে ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনসহ অনেক সংগঠন সেই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছিল।
উল্লেখ্য, ২০৩০ বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে। কারণ, এই আসরের মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন করা হবে। স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগাল যৌথভাবে মূল আয়োজনের দায়িত্বে থাকলেও শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েতেও স্বাগতিক দেশগুলোর উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।