ফ্রান্স-সেনেগাল ম্যাচ © সংগৃহীত
২৪ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও সেনেগাল। ২০০২ সালের ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতি বুকে নিয়ে মাঠে নামা আফ্রিকান দলটি প্রথমার্ধে শক্তিশালী ফ্রান্সকে বেশ চাপে রেখেছে। একাধিক পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা না পাওয়ায় বিরতিতে দুই দলই মাঠ ছাড়ে গোলশূন্য সমতায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলতে থাকে সেনেগাল। দ্বিতীয় মিনিটেই এল হাজি মালিক দিয়ুফের বিপজ্জনক ক্রস থেকে কর্নার আদায় করে ফেলে তারা। বলের দখলে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকে বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে অস্বস্তি তৈরি করেন সাদিও মানে, নিকোলাস জ্যাকসন ও ইসমাইলা সাররা।
অষ্টম মিনিটে জ্যাকসনের পাস থেকে সুযোগ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে দারুণ ট্যাকলে বিপদমুক্ত করেন দায়ো উপামেকানো। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের ছন্দ ফিরে পেতে শুরু করে ফ্রান্স। উসমান দেম্বেলের পাসে ভালো অবস্থানে বল পেলেও তা নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন কিলিয়ান এমবাপ্পে। পরে দেম্বেলের দূরপাল্লার শটও প্রতিহত হয় সেনেগালের রক্ষণে।
প্রথমার্ধের সেরা সুযোগটি আসে ২৬তম মিনিটে। দিয়ুফের চমৎকার পাস ধরে বাম দিক দিয়ে এগিয়ে গিয়ে উপামেকানোকে কাটিয়ে জোরালো শট নেন নিকোলাস জ্যাকসন। তবে তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল গোলরক্ষক মাইক মেনিয়ানের গায়ে লেগে কর্নারের বিনিময়ে বাইরে চলে গেলে হতাশ হতে হয় সেনেগালকে।
পানি পানের বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ছিল আফ্রিকান দলটির হাতে। ৩২তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ইসমাইলা সারের নেওয়া শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে এবং দেজিরে দুয়ের মতো তারকারা প্রথমার্ধে নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে পারেননি।
শেষদিকে কয়েকটি সেট-পিস থেকে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করে ফ্রান্স। তবে সেনেগালের অধিনায়ক কালিদু কুলিবালি ও গোলরক্ষক এদুয়ার মেনদির দৃঢ়তায় সেগুলো সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। যোগ করা সময়ে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পায় সেনেগাল। ফ্রান্সের বক্সে বল পেয়ে কাছাকাছি দূরত্ব থেকে শট নেন ইসমাইলা সার, কিন্তু বল ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় প্রচেষ্টা গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
প্রথমার্ধের খেলা শেষে তাই গোল না হলেও পারফরম্যান্সের বিচারে কিছুটা এগিয়েই ছিল সেনেগাল। তবে স্কোরলাইন ছিল ০-০, ফলে দ্বিতীয়ার্ধে সবকিছুই খোলা থাকল।