চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা © সংগৃহীত
২০২২ সালে কাতারের মরুভূমিতে যে স্বপ্নপূরণ হয়েছিল, উত্তর আমেরিকার মাটিতে সেই স্বপ্নকে আরও মহিমান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। এবার শুধু শিরোপা রক্ষার লড়াই নয়, ইতিহাসের সঙ্গেও লড়ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপ ধরে রাখা সবসময়ই সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। সর্বশেষ ১৯৬২ সালে ব্রাজিল টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতেছিল। এরপর পেরিয়ে গেছে ৬৪ বছর। অসংখ্য শক্তিশালী দল এসেও সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি। এবার সেই বিরল অর্জনের সামনে দাঁড়িয়ে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৮ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের মাধ্যমে। এরপর ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে দ্বিতীয়বার বিশ্বসেরা হয় তারা। তারপর দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষা। অবশেষে ২০২২ সালে লিওনেল মেসির হাত ধরে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ওঠে আকাশি-সাদা শিবিরে। এখন প্রশ্ন একটাই, এই দল কি নতুন ইতিহাস লিখতে পারবে?
আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের ধারাবাহিকতা এবং অভিজ্ঞতা। স্কালোনি যে ২৬ সদস্যের দল নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছেন, তার মধ্যে ১৭ জনই কাতারে বিশ্বজয়ী দলের অংশ ছিলেন। চার বছর আগে যারা চাপের মুহূর্তে নিজেদের প্রমাণ করেছিলেন, তারাই আবারও দলের মূল ভিত্তি।
অবশ্য, সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন একজনই—লিওনেল মেসি। বিশ্ব ফুটবলের প্রায় সব অর্জনই নিজের করে নিয়েছেন এই মহাতারকা। ৮টি ব্যালন ডি'অর, ৬টি ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট, দুটি বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল এবং অসংখ্য রেকর্ডের মালিক তিনি। ৩৮ বছর বয়সেও দলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রাণভোমরা মেসি। যদিও অনেকের ধারণা, এটাই হতে পারে মেসির শেষ বিশ্বকাপ। তাই তার বিদায়ী অধ্যায়কে আরেকটি শিরোপা দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে চাইবে পুরো আর্জেন্টিনা।
তবে সবকিছুর পরও কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামার কারণে বাড়তি প্রত্যাশার চাপও থাকবে আর্জেন্টিনার ওপর। ইতিহাস বলে, শিরোপাধারী দলগুলোকে সবসময়ই অন্যরা বিশেষ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখে। ফলে প্রতিটি ম্যাচই তাদের জন্য একেকটি পরীক্ষা।
আর সেই পরীক্ষার শুরু হবে গ্রুপ ‘জে’ থেকে। সেখানে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া ও জর্ডান। কাগজে-কলমে স্কালোনির দল স্পষ্ট ফেভারিট হলেও বিশ্বকাপ বারবার প্রমাণ করেছে, এখানে কোনো প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তবু সব হিসাব-নিকাশের শেষে একটি বিষয় স্পষ্ট, ৬৪ বছরের পুরোনো ইতিহাস ভেঙে বিশ্বকাপের মুকুট আবারও নিজেদের মাথায় রাখা।