শিক্ষকদের বেতন দেরিতে ব্যাংকে যাওয়ার কারণ জানাল মাউশি

০৪ জুন ২০২৬, ০৪:৩০ PM , আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ PM
মাউশি

মাউশি © ফাইল ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি)-এর মাধ্যমে দিচ্ছে সরকার। তবে সরকারি চাকরিজীবীরা প্রতি মাসের শুরুতে বেতন-ভাতা পেলেও বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন পেতে দেরি হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে কেন বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রতি মাসে দেরিতে দেওয়া হচ্ছে?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। সংস্থাটি জানিয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের ইএফটিতে বেতন দিতে মাত্র ৫টি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। তবে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাওয়ার পূর্বে ১৪টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়।

শুধু তাই নয়; সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান থেকে ইএফটি বিল সাবমিটের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর কিংবা মন্ত্রণালয় সরাসরি হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে বেসরকারি স্কুল-কলেজের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান থেকে বিল সাবমিটের পর অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়ের জিও জারিসহ একাধিক অতিরিক্ত ধাপে অনুমোদন নিতে হয়। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বেশ সময় লেগে যায়। এজন্য বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পেতে বিলম্ব হয়।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে ইএমআইএস সেলের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপে মাউশির কোনো কাজ নেই। তৃতীয় ধাপ থেকে মাউশির কাজ শুরু। ৩ থেকে ১৮ ধাপ পর্যন্ত কাজগুলো প্রতি মাসেই করতে হয় এবং কাজগুলো একটার উপর অন্যটা নির্ভরশীল। কোনো একটা স্তরে বিলম্ব হলে তার পরের ধাপগুলো অটোমেটিক বিলম্বিত হয়। এজন্য ইএফটির অর্থ পেতে বিলম্ব হয়।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যারা সরকারি চাকরি করেন তাদের ক্ষেত্রে ৯ম, ১৫ থেকে ১৮তম ধাপ অনুসৃত হয়। তাই সরকারি ইএফটির সাথে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরর ইএফটির কোনো মিল নেই। এজন্য সরকারি চাকরিজীবীরা মাসের শুরুতে বেতন পেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পেতে কিছুটা দেরি হয়।’

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন পাওয়ার ধাপ সমূহ
নতুন যোগদানকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের প্রক্রিয়াটি শুরু হয় প্রতিষ্ঠান থেকে অনলাইন এমপিও আবেদনের মাধ্যমে। দ্বিতীয় ধাপে এ আবেদন আঞ্চলিক কার্যালয়ের অনুমোদনের পর মাউশিতে পাঠানো হয়। তৃতীয় ধাপে মাউশির এমপিও সভা আবেদন অনুমোদন করা হয়। চতুর্থ ধাপে ইএমআইএস সেলে এমপিও প্রসেসিং এবং ইনডেক্স নম্বর দেওয়া হয়।

৫ম ধাপে শিক্ষক-কর্মচরীদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে ইএফটি বিল সাবমিট করা হয়। ৬ষ্ঠ ধাপে আইবাস++ এ তথ্য যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। ৭ম ধাপে তথ্য যাচাই শেষে আইবাস থেকে এটি মাউশিতে পাঠানো হয়। ৮ম ধাপে ইএমআইএস সেলের মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন প্রক্রিয়াকরণ করা হয়।

৯ম ধাপে প্রতিষ্ঠান থেকে ইএফটি বিল সাবমিট করা হয়। ১০ম ধাপে ইএমআইএস সেলে এমপিও এর চূড়ান্ত হিসাব তৈরি করা হয়। ১১তম ধাপে এটি মাউশি থেকে অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ১২তম ধাপে মন্ত্রণালয় থেকে বেতনের জিও জারি করা হয়। ১৩তম ধাপে জিও জারির পর এমপিওর তথ্য পুনরায় আইবাস++ এ পাঠানো হয়। ১৪তম ধাপে আইবাস থেকে পরবর্তীতে মাউশির ডিডিও’র কাছে পাঠানো হয়।

১৫তম ধাপে মাউশির ডিডিও’র আইডি থেকে পরবর্তী ধাপে এটি হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হয়। ১৬তম ধাপে হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে তথ্য পাঠানো হয়। ১৭তম ধাপে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে বেতনের অর্থ পাঠায়। ১৮তম ধাপে ধাপে ব্যাংকগুলো শিক্ষকদের অ্যাকাউন্টে বেতন-ভাতার অর্থ প্রেরণ করে।

যশোরে ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় ৬২ ধনী নারী, তিন কর্মকর্তার …
  • ০৪ জুন ২০২৬
পুকুরে গোসল করতে নেমে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
  • ০৪ জুন ২০২৬
সুন্দরবনে অস্ত্র-গুলিসহ বনদস্যু আটক, আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল কো…
  • ০৪ জুন ২০২৬
মিনিস্টার হাই-টেক পার্ক নিয়োগ দেবে সার্ভিস কোঅর্ডিনেটর, আবে…
  • ০৪ জুন ২০২৬
২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
  • ০৪ জুন ২০২৬
জিয়াউর রহমানের দেখানো পথেই এগিয়ে যেতে চায় বিএনপি : মির্জা ফ…
  • ০৪ জুন ২০২৬