৩০ মিনিটে ২৫৮ বার কল দিয়েও চিকিৎসকের সিরিয়াল পেলেন না রোগী, ফেসবুকে ক্ষোভ

০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪০ PM
৩০ মিনিটে ২৫৮ বার কল দেন এক রোগী

৩০ মিনিটে ২৫৮ বার কল দেন এক রোগী © সংগৃহীত

রাজশাহীতে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও লিভার বিশেষজ্ঞের সিরিয়াল নিতে ৩০ মিনিটের ব্যবধানে ২৫৮ বার কল দিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন এক রোগী। ২৫৭ বার কলটি ব্যস্ত পাওয়ার পর শেষ চেষ্টায় তিনি জানতে পারেন সিরিয়াল শেষ হয়ে গেছে। রবিবার (২ আগস্ট) রাত ৯টা ৪৪ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন তিনি।

পোস্টদাতার নাম সাদিদ ইসলাম পরশ। তিনি রাজশাহীর প্রখ্যাত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আব্দুল আলিমের সিরিয়ালের জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালের হটলাইনে কল দেন তিনি।

তার ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, রবিবার রাত ৮টা ৫৯ মিনিট থেকে ৯টা ২৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ২৫৮ বার কল দিয়েছিলেন তিনি। এর আগে রাত ৮টা ২২ এবং আগের দিনও বেশ কয়েকবার পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে সাদিদ ইসলাম পরশ লিখেছেন, ​‘রোগীর অবস্থা যেমনই হোক, একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর জন্য যদি একজন মানুষকে শত শতবার ফোন ঘষে যেতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়, তবে এই কল সেন্টার বা সিরিয়াল ব্যবস্থার যৌক্তিকতা কোথায়? অনলাইন সিরিয়াল বা ডিজিটাল কোনো সহজ পদ্ধতির সুযোগ কি আমরা পেতে পারি না?’

​চিকিৎসা পাওয়া প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘এই ধরণের এনগেজড ফোন লাইন আর সিরিয়াল সিস্টেমের জটিলতা সাধারণ রোগীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে আরও অসুস্থ করে তুলছে। আমরা কি একটু মানবিক ও সুশৃঙ্খল সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা আশা করতে পারি না?’

এদিকে সাদিদ ইসলাম পরশের পোস্ট ঘিরে বেশ সমালোচনাও শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, আধা ঘণ্টার মধ্যে ২৫৮ বার কল দেওয়ার মতো জরুরি অবস্থা হলে রোগীকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা প্রয়োজন। অন্যথায় রাজশাহীতে আরও অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও লিভার বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, যাদের কাছেও রোগী দেখানো যায়।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. উমাইর চৌধুরী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘চিকিৎসা পাওয়া মৌলিক অধিকার, সেটা রাষ্ট্রের কাছে। কারো প্রাইভেট চেম্বারে সিরিয়াল শেষ হলে সেটার জন্য তাকে দায়ী করার এখতিয়ার কারো নেই। শ্রদ্ধেয় চিকিৎসক তার প্রাইভেট চেম্বারে লিমিটেড রোগী দেখেন, রোগীদের পর্যাপ্ত সময় দেন এটা অবশ্যই প্রশংসনীয় এবং অন্য ডাক্তারদের জন্য অনুকরণীয়। রাজশাহীতে উনার সাবজেক্টের অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন। সুতরাং উনাকেই দেখাতে হবে কিংবা সবচেয়ে বড় ডাক্তারকেই দেখাতে হবে এই ধারণা পরিহার করা উচিত।’

তিনি লিখেছেন, ‘রোগীর যদি ইমার্জেন্সি কন্ডিশন হয় তাহলে তো প্রাইভেট চেম্বারে দেখানোর প্রয়োজন নেই। হাসপাতালে জরুরি বিভাগ কিংবা ভর্তি হতে হবে। সিরিয়াল না পেয়ে কটুক্তি করা ও বিষোদগার করা কোন সভ্য সমাজের মানুষের কাজ হতে পারে না।’

আইনুল রাজ নামে একজন সাদিদ ইসলাম পরশকে খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, ‘কল করার জন্য গিনিসবুকে নাম লিখতে পারেন।’

৮ কেজি গাঁজাসহ কোহিনুর ও তিলকজান গ্রেপ্তার 
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
৫০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘প্রাইম মিনিস্টার…
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
ব্যাংকিং ছেড়ে প্রযুক্তি খাতে জিশান আহমেদ, জেনকোর সল্যুশনসের…
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভী
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
পরীক্ষা নয়, লটারির মাধ্যমেই প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ সমাপনীতে এমবাপ্পেকে আনার পরিক…
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬