ইবির বিএনসিসি-রোভার সদস্য © সংগৃহীত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কেন্দ্রীয় নবীন বরণ অনুষ্ঠানে টানা আট ঘণ্টার বেশি দায়িত্ব পালন করেও সম্মানি না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের সদস্যরা। গত ১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত কেন্দ্রীয় নবীন বরণ অনুষ্ঠানে তারা শৃঙ্খলা রক্ষা, অতিথি ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, জাতীয় দিবস উদযাপন, সমাবর্তন, প্রশাসনিক অনুষ্ঠান জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে। অতীতে এসব কাজে তাদের সম্মানি দেওয়া হলেও এবার তা দেওয়া হয়নি। রোভারদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ফি পরিশোধে অনাগ্রহ দেখানোয় তারা বিভিন্ন জাতীয় ক্যাম্প, প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গত বছর একজন সদস্য হজ ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও এবার সেই সুযোগ হয়নি। সামনের জাতীয় রোভার ক্যাম্পে অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনসিসি সদস্যদের অভিযোগ, নীতিমালা অনুযায়ী বিএনসিসির বিভিন্ন কার্যক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহনের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিজস্ব অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফায়ারিং ক্যাম্পসহ কয়েকটি বিলের অর্থ এখনও পরিশোধ করা হয়নি বলেও তারা দাবি করেন। পাশাপাশি সাপ্তাহিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নির্ধারিত নাস্তার ভাতাও নিয়মিত পান না বলে অভিযোগ তাদের।
সেনা শাখার ক্যাডেট মো. হাবিবুর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, দশ-এগারো মাস আগের ছয়-সাতটি বিল এখনো বকেয়া। শিক্ষার্থীদের পকেটের টাকা খরচ হলেও প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। শিক্ষামন্ত্রীর গার্ড অব অনারের জন্য পাইলট স্টিক পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলা স্কুল থেকে ধার করতে হয়েছে, যা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জাজনক। তিনি বিএনসিসি-রোভারের তহবিল ব্যবহারে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
ক্যাডেট কর্পোরাল মায়েশা ফারজানাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বেচ্ছাসেবিতা মানে এই নয় যে আমাকে সারাদিন গাধার মতো খাটানো হবে। একজন দিনমজুরও সারাদিন কাজ করে অন্তত ৫০০ টাকা সম্মানি পান। অথচ আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজ করি, আর আমাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়।
ইবি রোভার স্কাউট গ্রুপের ইউনিট কাউন্সিল সভাপতি খন্দকার আবু সাঈম বলেন, ওরিয়েন্টেশনে সদস্যরা সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। আমাদের জানামতে রোভার কার্যক্রমের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত বাজেট রয়েছে। তাহলে এ বছর কেন সম্মানি দেওয়া হলো না? পূর্বের বছরগুলোতে ডিউটির জন্য সম্মানি দেওয়া হলেও এবার শুধু খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর শুধু খাবার দিয়ে আমাদের শ্রম ও সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না।
বিএনসিসির নৌ শাখার ক্যাডেট আন্ডার অফিসার (সিইউও) মুহিব্বুল্লাহ নোমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনসিসি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে। নবীন বরণ অনুষ্ঠানে সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেও আমরা কোনো সম্মানি পাইনি। যে সামান্য সম্মানি আগে দেওয়া হতো, সেটিও এবার দেওয়া হয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক।
বিএনসিসির সেনা শাখার ক্যাডেট আন্ডার অফিসার (সিইউও) মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, অতিথিদের প্রটোকল, শৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আমরা টানা আট ঘণ্টার বেশি দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু দায়িত্ব শেষে কোনো সম্মানি দেওয়া হয়নি। জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের জন্য ব্যয় করা হলেও ক্যাডেটদের ন্যায্য প্রাপ্যের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবার যুক্তি দেখানো দুঃখজনক।
এসব ব্যাপারে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আলীনূর রহমান বলেন, আমাকে যখন আহ্বায়ক হিসেবে দেওয়া হয় তখন ঢাকায় থাকায় এবিষয়ে আমার জানা ছিল না। বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটদের দায়িত্বে যে সকল শিক্ষকরা আছেন এটা তাদের কমিউনিকেশন ঘাটতির জন্য এমনটা হয়েছে। তারা সক্রিয় এবং ভালো কমিউনিকেশন করলে আজকে এটা হতো না। প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে তাদের সম্মানি দেওয়া হোক।
জানতে চাইলে ইবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত কিছু প্রোগ্রামে রোভার সদস্যদের ২০০ টাকা করে সম্মানি দেওয়া হতো। তবে এবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বাজেট সংক্রান্ত কারণে কোনো আর্থিক সম্মানীর ব্যবস্থা ছিল না; সবার মতোই শুধু খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন বরণ অনুষ্ঠান নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলাম এবং তারা আমার নেতৃত্বেই কাজ করেছে। তবে এ বিষয়ে তাদের যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক মহোদয় আছেন তারা ভালো বলতে পারবেন। এবিষয়ে আমি কিছু জানি না।