ইবির ওরিয়েন্টেশনে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ © সংগৃহীত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তিকৃত (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের সেন্ট্রাল ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে মধ্যাহ্নভোজের জন্য নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা গেছে নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে। নিম্নমানের খাবার খেতে পারেননি আয়োজক কমিটির দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরাও।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত দুই পর্বে বিভক্ত এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এদিন প্রতিটি বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরে খাবার সরবরাহ করা হয়। তবে আধা-সিদ্ধ চাল, টক হয়ে যাওয়া ডাল এবং নিম্নমানের খাবারের পরিবেশনের কারণে সেই খাবার মুখে তুলতে পারেনি অধিকাংশ শিক্ষার্থী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম ২০২৬ এ সফলভাবে আয়োজনের জন্য ডজন খানেক কমিটি গঠন করে প্রশাসন। তার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে ৮ সদস্যের একটি ‘আপ্যায়ন উপ-কমিটি’ করা হয়। কমিটি কুষ্টিয়ার সি.আর.সি রোডের ধোঁয়া রেস্টুরেন্ট থেকে ওরিয়েন্টেশনের জন্য ২৫০ টাকা প্রতি প্যাকেট মূল্যে মোট ৩ হাজার ৫০০ প্যাকেট খাবার অর্ডার করে। যার সর্বমোট মূল্য প্রায় ৯ লক্ষ টাকা। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, এই খাবারের দাম সর্বোচ্চ দেড়শো থেকে ১৮০ টাকা হবে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে আল হাদীস বিভাগের নবীন আবদুর রহমান বলেন, পোলাও আধা সিদ্ধ, ডিম ও ডাল উভয়টাই নষ্ট পেয়েছি। রোস্ট ছাড়া আর কিছু খাওয়ার মতো ছিলো না। সব নষ্ট হয়েছিল। এটা খুবই হতাশাজনক।
শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ফারজানা বলেন,খাবারের টেস্ট বা কোয়ালিটি ছিলো খুবই নিম্নমানের। পোলাও ঠিক ভাবে সিদ্ধ হয়নি। আর আমাদের খাবার দিয়েছে দুপুর দেড়টার দিকে। ততক্ষণে খাবার নষ্ট হয়ে গন্ধ বেরিয়ে গিয়েছিলো। আমাদের ডিপার্টমেন্টের কেউই ঠিক ভাবে খেতে পারে নাই।
কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের তোফায়েল বলেন, খাবারের মান সন্তোষজনক ছিল না। অনেক দেরিতে পরিবেশন করায় গুণগত মান আরও অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের বিভাগের সবাই ই খাবারের কথা বলেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনে খাবারের মান ও সময়মতো পরিবেশনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে আশা করি।
গণিত বিভাগের শাহরিয়ার লিমন বলেন, খাবার নিয়ে বললে বিষয়টা দৃষ্টিকটু হবে। ডাল তো আমরা খেতেই পারি নাই। কারণ ওটা আমাদের দেওয়ার আগেই টক হয়ে গেছিল। আর রোস্ট যে খুব ভালো ছিল তাও না তবে মোটামুটি মানের ছিল। এই বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে আরেকটু ভালো মানের করতে পারতেন।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা এবং আপ্যায়ন উপ-কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, প্রথমে কাচ্চি বিরিয়ানির বাজেট করা হয়েছিল ৩২০ টাকা করে, ভ্যাটসহ ৪০০ টাকা। পরবর্তীতে বাজেট বেশি হয়ে যাওয়ায় গত সোমবার প্রশাসন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। ভ্যাটসহ ২৫০ টাকার মধ্যে মোরগ পোলাও দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের মধ্যে একমাত্র ধোঁয়া রেস্টুরেন্ট একসাথে সাড়ে ৩ হাজার প্যাকেট দিতে পারবে বলে জানালে তাদেরই অর্ডার দেয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ এসেছে যে ভাতগুলো সিদ্ধ হয়নি। তরকারি টক হয়ে গেছে। এমন হতে পারে যে খাবার গুলো ঠান্ডা না করেই প্যাকেট করা হয়েছে। এজন্য গরম ভাপে এমন হতে পারে। তবে কমিটির সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি ছিলো না।