এসআইয়ের ঘুষের জেরে থানায় বাকবিতণ্ডা

ইউএনওর অভিযান, এক মাসের সাজা বিচারপ্রার্থী মা ও কলেজপড়ুয়া মেয়েকে

০৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:০২ AM , আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৩ PM
কারাগারে মা ও মেয়ে

কারাগারে মা ও মেয়ে © সংগৃহীত

কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিচারপ্রার্থী এক কলেজছাত্রী ও তার মাকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই পল্লব ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও তাদের বিপক্ষে প্রতিবেদন দেওয়ায় প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে উল্টো তারা শাস্তির মুখে পড়েছেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের স্ত্রী রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮) ও তার মেয়ে কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা জন্নাত (২৩)। গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে পেকুয়া থানা চত্বরে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুবাইদাদের পৈতৃক বসতভিটা নিয়ে চকরিয়া আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে, যার তদন্তভার ছিল পেকুয়া থানার এসআই পল্লবের ওপর। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তদন্ত প্রতিবেদন নিজেদের পক্ষে পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসআই পল্লব তাঁদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি প্রতিবেদনটি প্রতিপক্ষের পক্ষে জমা দেন।

টাকা ফেরত এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে বুধবার বিকেলে জুবাইদা ও তার মা থানায় যান। সেখানে এসআই পল্লবের সঙ্গে তাদের তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ৬০ বছর বয়সী মনজিলা বেগম জানান, ‘আমি জুবাইদাদের সঙ্গেই থানায় গিয়েছিলাম। এসআই পল্লব টাকা নেওয়ার বিষয়ে তাঁরা কথা তুললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের মারধর শুরু করেন।’ এ সময় অন্য সেবাগ্রহীতাদের থানা থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং নারী পুলিশ সদস্যরা মা-মেয়েকে গেটের দিকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।

আরও পড়ুন: স্ত্রীকে হত্যার পর আগুনে পুড়ানোর চেষ্টা, আইনজীবী স্বামী আটক

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলমকে থানায় ডেকে আনা হয়। পরবর্তীতে সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মা ও মেয়েকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন তিনি।

এ বিষয়ে ইউএনও মাহবুব আলম বলেন, ‘থানায় সরকারি কাজে বাধা এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় তাঁদের সাজা দেওয়া হয়েছে। ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি তদন্তে বেরিয়ে আসবে, তবে অসদাচরণের দায়ে এই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম দাবি করেন, মা-মেয়ে থানায় এসে পুলিশের ওপর হামলা করেছেন। তবে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। অভিযুক্ত এসআই পল্লবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ভুক্তভোগী জুবাইদার ছোট ভাই রুবেল ও খালা আমেনা মুন্নী এই ঘটনাকে সাজানো নাটক উল্লেখ করে বলেন, ‘টাকা নিয়ে প্রতিবেদন বিপক্ষে দিল, আবার টাকা ফেরত চাইলে মারধর করে উল্টো জেল খাটানো হচ্ছে। আমরা এই অবিচারের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’ বিচারপ্রার্থী হয়ে থানায় এসে উল্টো জেলহাজতে যাওয়ার এই ঘটনায় কক্সবাজারের সচেতন মহলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

টাইমস হায়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দিনদিন অবনতি…
  • ০১ অক্টোবর ২০২৬
নোবিপ্রবির মেডিকেল সেন্টারে আপত্তিকর অবস্থায় যুগল, অতঃপর...
  • ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কুষ্টিয়ার সেই শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দ…
  • ০১ অক্টোবর ২০২৬
৪৯তম বিসিএসে গোপালগঞ্জের ১১ প্রার্থীর ৯ জন বাদ
  • ০১ অক্টোবর ২০২৬
কটুক্তির অভিযোগে শিক্ষককে আটক, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছাড়ল…
  • ০১ অক্টোবর ২০২৬
রাজু ভাস্কর্যে আত্মাহুতির ঘোষণা দিলেন বিসিএসে বাদ পড়া ঢাবি …
  • ০১ অক্টোবর ২০২৬