৫ আগস্টের পর দেশে ফেরা মাদক কারবারি গণপিটুনিতে নিহত

২৯ মে ২০২৬, ০৫:৩৯ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ইয়াবা বিক্রি ও সেবনকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের উত্তেজনা পরবর্তী গণপিটুনিতে মো. সেলিম (৪৫) নামে এক মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন। এতে তার সহযোগী মো. মামুন (৩২) ও সৈয়দ হোসেন (৪০) আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার চরতী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলা বাজার খতিরহাট এলাকার সৈয়দ আহমদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহত মো. সেলিমের পিতা আবুল খায়ের বাদী হয়ে ২৯ জনের নাম উল্লেখপূর্বক ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা বিবাদী করে সাতকানিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এর পরপরই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহির আমিন অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি মো. ইসমাঈল প্রকাশ ইমনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত সেলিম ২০১৮ সালে স্থানীয় আলমগীর নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করেন। তিনি ওই মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন। একই বছরের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১৫ থেকে ২০ দিন আগে তিনি দুবাই চলে যান। হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেন। 

এছাড়াও তিনি চরতী ইউনিয়নের খতিরহাট বাংলা বাজারের পদ্মা পুকুর পাড়ে ভাড়া বাসায় থেকে ইয়াবা বিক্রি ও সেবন করতেন। তার ভাড়া বাসার সামনে রশিদ আহমদ নামে এক ব্যক্তির একটি করাতকল রয়েছে। রশিদের ভাই নুরু সেটি দেখাশোনা করেন। একপর্যায়ে তিনি সেলিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন এবং মাদক সেবনে বাধা দেন। তারই প্রেক্ষিতে নুরু ঈদুল আযহার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় সেলিম, পুতু, মামুন ও সৈয়দসহ আরও কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে গদারঘোনা থেকে সরওয়ার নামে এক যুবক দুরদুরি সেন্টারে এসে প্রতিবাদ করেন।

আরও জানা যায়, সৈয়দ বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সেলিমকে জানালে তারা এসে সরওয়ারকে মারধর করে আটকে রাখেন। খবরটি গদারঘোনা এলাকায় পৌঁছালে মহিউদ্দিন ও ইমতিয়াজের নেতৃত্বে ৭ থেকে ৮ জন গণ্যমান্য লোক দুরদুরি সেন্টারে আসলে সেলিমের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সেলিম তাদেরকে চুরি নিয়ে ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। 

এরপর গদারঘোনা থেকে দুই শতাধিক লোক দুরদুরি সেন্টারে এসে সরওয়ারকে উদ্ধারের পাশাপাশি সেলিমের সহযোগী মামুনকে তুলে নিয়ে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে সেলিম, পুতু ও সৈয়দসহ আরও কয়েকজন পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে পালিয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর তারা পুনরায় ভাড়া বাসায় এসে ইয়াবা সেবন শুরু করেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গদারঘোনা থেকে তিন শতাধিক লোক এসে চোর-ডাকাত এসেছে জানিয়ে বাসাটি ঘেরাও করে সেলিম ও তার দুই সহযোগীকে গণপিটুনি দেন। এরপর থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেলিমের মৃত্যু হয়।

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে ভিকটিমদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মাহফুজ আলমের রাজনৈতিক প্রস্তাবনার তিন স্তম্ভ— রবুবিয়ত, দায়-…
  • ২৯ মে ২০২৬
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দেখতে রাস্তায় প্রধানমন্ত্রী, গাফিলতি পাও…
  • ২৯ মে ২০২৬
মহাসড়কের পাশে সন্তানের জন্ম দিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী
  • ২৯ মে ২০২৬
চাঁদাবাজির ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিককে হেনস্তা করল ছাত্রদলের…
  • ২৯ মে ২০২৬
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশে চাকরি, করুন আবেদন
  • ২৯ মে ২০২৬
এশিয়ার শীর্ষ বিজ্ঞানীদের তালিকায় বুটেক্স শিক্ষক ড. আব্বাস
  • ২৯ মে ২০২৬