চীনা নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার © সংগৃহীত
লোভনীয় চাকরির সুযোগ ও বাড়তি আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তিন চীনা নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে অবৈধ ভিওআইপি, জিএসএম গেটওয়ে ডিভাইস, হাজারো সক্রিয় সিমকার্ড, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, বিদেশি মদ ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভিওআইপি, জিএসএম গেটওয়ে ডিভাইস এবং অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত একটি প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ঝর্না চাকমা জিয়ানা (২৭), লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) ও শে ই রান (৪২)। তাদের মধ্যে তিনজন চীনা নাগরিক।
ডিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১ আগস্ট) রাতে ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি দল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ছয়তলা ভবনে অভিযান চালায়। সেখান থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ভাড়া বাসায় স্ত্রী-শ্বাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যা, পুলিশের জালে ধরা স্বামী
অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি স্মার্টফোন, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৬ হাজারের বেশি সক্রিয় সিমকার্ড এবং ২০টি গেটওয়ে মেশিন জব্দ করা হয়। এছাড়া ২৬ বোতল বিদেশি মদ এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি জানায়, ঝর্না চাকমা জিয়ানা পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে এর চতুর্থ ও পঞ্চম তলা চীনা নাগরিকদের কাছে ভাড়া দেন। তারা সেখানে অবস্থান করে উন্নত প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা এবং অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।
তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি সাধারণ মানুষের মোবাইলে বিভিন্ন লোভনীয় বার্তা পাঠাত। এসব বার্তায় নতুন চাকরির সুযোগ, বিশেষ অফার কিংবা বাড়তি আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন লিংক পাঠানো হতো। কেউ সেই লিংকে ক্লিক করলেই প্রতারকদের ফাঁদে পড়তেন।
ডিবি আরও জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে চক্রটি অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তি ব্যবহার করত। তারা একটি মোবাইল ডিভাইসের সঙ্গে বাহ্যিকভাবে একাধিক স্লট যুক্ত করে একসঙ্গে ১২টি সিম পরিচালনা করত। ফলে ভুক্তভোগীরা অর্থ হারিয়ে অভিযোগ করলেও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের আইএমইআই (IMEI) নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হতো না।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ডিবি।