হাতিরঝিল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ © সংগৃহীত
রাজধানীর হাতিরঝিলের পশ্চিম উলন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানি থেকে তাহেদী আক্তার (৬) নামে এক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শিশুটিকে নিপীড়নের পর হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষুব্ধ জনতা হাতিরঝিল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন স্থানীয় বাসিন্দা হাতিরঝিল থানা-র সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিশুটিকে নিপীড়নের পর হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা নিতে পুলিশ প্রথমে গড়িমসি করে। এর প্রতিবাদে রাত ৯টার দিকে শত শত মানুষ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পরিস্থিতির চাপে রাত ১১টার দিকে পুলিশ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা গ্রহণ করে বলে স্বজনদের দাবি। আন্দোলনের মুখে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্মাণাধীন ভবনের দারোয়ানকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা ‘আমার বোন মরলো কেন, বিচার চাই’ স্লোগান দিয়ে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তাদের ধারণা, শিশুটির মুখে বিস্কুট চাপা দিয়ে হত্যার পর লাশ পানিতে ফেলে দেওয়া হতে পারে।
নিহত তাহেদী কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীরগাঁও গ্রামের মো. লিটন মিয়ার মেয়ে। পরিবারটি পশ্চিম উলন ১২/১/এ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকত। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়ত।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে ইফতার শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে খেলতে বাসার বাইরে যায় তাহেদী। তার মা তারাবির নামাজ পড়ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটির বাবা বাসায় ফিরে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের জন্য রাখা গর্তে জমে থাকা পানিতে তাহেদীর নিথর দেহ পাওয়া যায়। দ্রুত সেখান থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ বাসায় নেওয়া হলে খবর পেয়ে পুলিশ তা উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
নিহতের চাচা মো. স্বপন মিয়া দাবি করেন, ‘যদি পানিতে পড়ে মারা গিয়ে থাকে, তাহলে তার পেটভর্তি পানি থাকার কথা। অথচ তার পেটে কোনো পানি ছিল না। মুখের মধ্যে বিস্কুটের গুঁড়া ছিল। পানি খেলেও তো এগুলো থাকার কথা না।’ এ কারণেই তারা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে বোঝা যাবে, সে একা বের হয়েছিল নাকি কেউ নিয়ে গেছে—এমনটিও বলেন তিনি।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বুধবার রাতে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ১০০ থেকে ১৫০ জন থানার সামনে অবস্থান নেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি।’
তিনি জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় শরীরে কোনো দৃশ্যমান জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু মনে হলেও বাবার দায়ের করা হত্যা মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে; প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।