পাসপোর্ট অফিসে সিন্ডিকেট; দুই কর্মকর্তার অপসারণ দাবি

০৮ জুন ২০২৬, ০৭:১৯ PM , আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:২১ PM
পাবনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের দুই কর্মকর্তাকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

পাবনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের দুই কর্মকর্তাকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন © টিডিসি ফটো

পাবনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে হয়রানি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয়রা। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে এক মানববন্ধনে এ দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আহসান উদ্দিন এবং ডাটা এন্ট্রি কন্ট্রোল অপারেটর ইমামুল হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরে দ্রুত অপসারণের দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও অনেক আবেদনকারীকে বিভিন্ন অজুহাতে বারবার অফিসে আসতে বাধ্য করা হয়। আবেদনপত্রে ত্রুটি দেখিয়ে ঘুরানো, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সেবা প্রদানে গড়িমসির কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

পাসপোর্ট অফিসকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মানববন্ধনে আতাইকুলা এলাকা থেকে আসা রবিউল ইসলাম বলেন, সরকারি ফি ছাড়াও প্রতি আবেদনে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। দালাল ও আশেপাশের কিছু কম্পিউটার দোকানের মাধ্যমে আবেদন জমা দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে সাধারণ আবেদনকারীদের নানা কারণে হয়রানির মুখে পড়তে হয়।

পাবনা পৌর সদরের রাধানগর এলাকার সাব্বির হোসেনের অভিযোগ, সিন্ডিকেটভুক্ত আবেদনগুলো চিহ্নিত করতে আবেদনপত্রের প্রথম পাতায় বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু কম্পিউটার দোকানের ই-মেইল ঠিকানা আবেদনে উল্লেখ করে ফাইল শনাক্ত করা হয়। এরপর হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কমিশনের অর্থ লেনদেন করা হয়।

আরও পড়ুন: ইন্টার্নদের মাসিক ভাতা হচ্ছে নবম গ্রেডের বেসিক, ট্রেইনিরা যে ‍সুবিধা পাচ্ছেন

                  ৬০ দিনের মধ্যেই এসএসসির ফল, প্রকাশের সময় জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

এর আগে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে পাসপোর্ট অফিসের এক আউটসোর্সিং কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে ভুক্তভোগীরা জানান, ওই ঘটনার মূল হোতারা আড়ালেই থেকে গেছেন এবং সিন্ডিকেটের কার্যক্রম এখনও বন্ধ হয়নি।

অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা ডাটা এন্ট্রি কন্ট্রোল অপারেটর ইমামুল হোসেনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিজের নামে নিবন্ধিত নম্বর ব্যবহার না করে অন্য একজনের জাতীয় পরিচয়পত্রে নিবন্ধিত একটি মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নম্বরের মাধ্যমে বিকাশে লেনদেনের তথ্য ও কিছু নথিপত্রও তাদের হাতে এসেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডাটা এন্ট্রি কন্ট্রোল অপারেটর ইমামুল হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে তা উপস্থাপন করা হোক।

পাবনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আহসান উদ্দিন বলেন, যদি কোনো অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ থাকে, তাহলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি অফিসে কোনো সিন্ডিকেট কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন।

‘সঠিক তথ্যের অভাব, অসচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিদেশে গিয়ে বিপদে…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
বাউবির এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬৩.৭৪ শতাংশ
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীর ম…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
নেপালে ভয়াবহ বন্যা, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তার প্রস্তাব দিল…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
প্রতিশ্রুতির ভারে জাকসু, সাড়ে ১১ মাসে বাস্তবায়ন কতটুকু?
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
পিএইচডিতে ফেলোশিপ দিচ্ছে হংকং
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬