প্রেমের বিয়ে মাদকে শেষ, স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ

০৮ জুন ২০২৬, ০১:৩৯ PM
স্বামী সুজন ও গৃহবধূ ছামিনা আক্তার সাম্মি

স্বামী সুজন ও গৃহবধূ ছামিনা আক্তার সাম্মি © টিডিসি ফটো

প্রেমের টানে ঘর বেঁধেছিলেন মামাতো-ফুফাতো ভাই বোন। রঙিন স্বপ্নে সাজাতে চেয়েছিলেন নতুন সংসার। কিন্তু সেই স্বপ্নকে চার মাসের মাথায় কেড়ে নিল মরণনেশা মাদক। মাদকের টাকার জন্য স্ত্রী ছামিনা আক্তার সাম্মিকে (২০) ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সুজনের (২২) বিরুদ্ধে। পরে নিজের শরীরে ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান সুজন।

সোমবার (৮ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি তামালতলা এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আহত অবস্থায় সাম্মিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, নিহত গৃহবধূ ছামিনা আক্তার সাম্মি (২০) যশোর সদর উপজেলার তরফ নওয়াপাড়া এলাকার শফিয়ার রহমানের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী সুজন টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার গয়হাটা ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে সুজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত সাম্মির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের জেরে পিতা-মাতাকে না জানিয়ে চার মাস আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সুজন ও ছামিনা। বিয়ের পর সাম্মি জানতে পারেন তার স্বামী সুজন চরম মাদকাসক্ত। এরপর থেকেই তাদের সংসারে অন্ধকার নেমে আসে। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই সুজন ছামিনাকে মারধর ও কলহ সৃষ্টি করত।

পরিবার জানায়, স্বামীর এই অন্ধকার জগৎ থেকে ফিরিয়ে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন ছামিনা। মাদকাসক্ত সুজনকে সঠিক পথে ফেরাতে এবং সংসারী করতে উভয় পরিবার এক অভিনব উদ্যোগ নিয়ে বিদেশে পাঠানোর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। আজ সোমবার (৮ জুন) সুজনের মালয়েশিয়া যাওয়ার বিমানের টিকিট কাটার কথা ছিল। কিন্তু স্বামীর উড্ডয়নের আগেই চিরতরে উড়ে গেল একটি নিষ্পাপ প্রাণ।

স্থানীয় প্রতিবেশী আজিবার বিশ্বাস জানান, সোমবার ভোরে শেখহাটি তামালতলা এলাকার ভাড়া বাড়িতে নেশার টাকা নিয়ে সুজন ও ছামিনার মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সুজন রাগ নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে ধারালো চাকু দিয়ে ছামিনার সমস্ত শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। ছামিনার আর্তচিৎকারে বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাকিরুল ইসলাম পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্ত্রীকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার পর ঘাতক সুজন নিজের শরীরে নিজেই চাকু দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকেও উদ্ধার করে একই হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা করেন ছামিনার কয়েকজন স্বজন। এতে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে সুজনের বাবা ও মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাকিরুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পূর্বেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের মরদেহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। জখমি স্বামী সুজন পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, ‘মাদকাসক্তির জেরে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছেলের পিতা-মাতাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’

প্রাথমিকের গোল্ডকাপ ফুটবল ফাইনাল ২০ জুন, উদ্বোধন করবেন প্রধ…
  • ০৮ জুন ২০২৬
চট্টগ্রামে মাদক কারবারি ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৬
  • ০৮ জুন ২০২৬
ইবনে সিনা ট্রাস্টে চাকরি, আবেদন এইচএসসি পাসেই
  • ০৮ জুন ২০২৬
‘বড় ভাইয়া’ ও ‘খালাম্মা’ পদে নিয়োগ, আবেদন করেছেন তো?
  • ০৮ জুন ২০২৬
কুবির সুমাইয়া ও তার মা হত্যা, ২৮২ দিনেও জমা হয়নি চার্জশিট
  • ০৮ জুন ২০২৬
নওগাঁয় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার
  • ০৮ জুন ২০২৬