দণ্ডপ্রাপ্ত কাউসার আহমেদ © সংগৃহীত
ক্যাম্পাসসংলগ্ন মাওলানা ভাসানী আদর্শ কলেজের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট কাউসার আহমেদ কর্তৃক ছুরিকাঘাতের ঘটনায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্তকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা আদর্শ কলেজ মাঠ-সংলগ্ন দরবার হল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মারুফ হোসেন বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে মারুফের সহপাঠী (প্রত্যক্ষদর্শী) বিএমবি বিভাগের (২০২০-২১) সেশনের শিক্ষার্থী তৌসিফ কবির বলেন, ‘কোনো পূর্বশত্রুতার জেরে আক্রমণটি হয়নি। মারুফ ও তার এক সহপাঠী মাওলানা ভাসানী আদর্শ কলেজ মাঠের দরবার হল-সংলগ্ন খালিদ ফটোস্ট্যাটের সামনে একটি বেঞ্চে বসে আইসক্রিম খাচ্ছিল। ওই লোকটিও আশপাশে বসা ছিল। এমন সময়ে অভিযুক্ত নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি মারুফকে ডেকে নিয়ে গালিগালাজ শুরু করে এবং ছোট একটি চাকু দিয়ে কয়েকবার আঘাত করে। এমতাবস্থায় মারুফ আমাকে ফোনে কল দিলে আমি দ্রুত প্রক্টর স্যারকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা উপস্থিত হওয়ার পর সে ছোট চাকু ফেলে দিয়ে আমাকে এবং মারুফকে একটি বড় ছুরি বের করে ফুডকার্টের দোকানগুলোর ওদিক থেকে ধাওয়া করা শুরু করে। একই সাথে নান্নুর রহমান (ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর) স্যারকে মারতে যায়। স্যার তখন দ্রুত তার গাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়লে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্যারকে হামলা না করতে পেরে তার গাড়িতে আঘাত হানেন।’
তৌসিফ আরো উল্লেখ করেন, ‘'তল্লাশির পর আসামির কাছ থেকে ২ টা গাজা খাওয়ার কলকি, ২ পোটলা গাঁজা, গাঁজা খাওয়ার জয়েন্ট পেপার উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ এসে অভিযান চালালে পরিষ্কার হওয়া যায় যে আদর্শ কলেজের একটি রুমে সে থাকে।’
এ বিষয়ে মাওলানা আদর্শ কলেজের প্রিন্সিপাল (দেলোয়ার) বলেন, ‘অভিযুক্ত আসামী এই কলেজের ফিজিকসের একজন ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট। সে মাদকাসক্ত। এর আগে অনেকবার পুলিশ ও প্রশাসন মিলে তাকে কয়েক মাস বারবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তবু তার মধ্যে কোনো পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি। আর তার জন্যে কলেজে কোনো রুম বরাদ্দ নেই। সে মাদকাসক্ত, সে কাউকে তোয়াক্কা করে না, রুমের বিষয়েও সে জোরজবরদস্তিপূর্বক দখলদারিত্ব ফলিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আমি পুলিশ প্রশাসনকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযুক্তের এক বছরের কারাদণ্ডের বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া গেছে যেটিতে আমরা সন্তুষ্ট।’
প্রিন্সিপালের কাছে অভিযুক্তের বহিষ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো গভার্নিং বডির নির্দেশে পরিচালিত হয়। সামনেই একটি মিটিং রয়েছে। এমন একজন কর্মচারী ক্যাম্পাস, বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ। যেহেতু তাকে এর আগে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি, তাই আমরা মিটিংয়ে তার বহিষ্কারের বিষয়টি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও নিরাপত্তাকর্মীরা অভিযুক্তকে আটক করে প্রক্টর দপ্তরে সোপর্দ করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো. নান্নুর রহমান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে প্রয়োজনীয় নানান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ওই ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। এমন ব্যক্তি যাদের নিয়মিত আসা যাওয়া আছে ক্যাম্পাসে অথচ মাদকাসক্ত তাদের নিয়ে শঙ্কিত শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।