আহত ছাত্রদল নেতা হাবিব © টিডিসি ফটো
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ‘গাঁজা-বাবা কি তোর বাপের টাকায় খাই’’— বলেই ছাত্রদল নেতা আদনান হাবিবকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। আহত হাবিব উপজেলার ২ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে থানায় মামলা হয়েছে।
তবে শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল পর্যন্ত মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার (৫ আগস্ট) উপজেলার খাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে হামলার এ ঘটনা ঘটে। হামলার নেতৃত্বদানকারী আবু হুরাইরা সাজিদ উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়ির মিজান হাওলাদারের ছেলে।
ছাত্রদল নেতা আদনান হাবিব জানান, তিনি এলাকায় মাদকবিরোধী বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এরআগেও একাধিক মাদক কারবারিকে মাদকদ্রব্যসহ পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। স্থানীয় আবু হুরাইরা সাজিদ চিহ্নিত মাদকসেবী ও মাদক কারবারির সঙ্গে জড়িত। এ কারণে তাকে একাধিকবার মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করেছিলেন।
সাজিদ উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসেন কবিরাজের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্ট সাজিদকে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মাদক সেবনের সময় জনতা আটক করে। একপর্যায়ে কৌশলে তিনি পালিয়ে যান। এ ঘটনার জেরে সাজিদ ছাত্রদল নেতা হাবিবের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেন। পরে ঘটনার সময় বাড়ি থেকে রায়পুরে যাওয়ার পথে সহযোগীদের নিয়ে সাজিদ হাবিবের ওপর হামলা চালান। এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্নঅংশে রক্তাক্ত জখম হয়।
রায়পুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুর রহমান হৃদয় বলেন, ‘হাবিব এলাকায় মাদকবিরোধীসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণেই দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি দুঃখজনক।’
জানতে চাইলে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা আদনান হাবিব বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। যদিও দুইপক্ষেরই ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত চলছে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাজিদের বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার বাবা মিজান হাওলাদার দাবি করেন, ছেলে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। ৫ আগস্ট মাদক সেবনের সময় স্থানীয়দের হাতে সাজিদ আটক হওয়ার ঘটনা তার জানা নেই।