৩৭ বছরের শিক্ষকতা শেষে ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায়

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০ PM
ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিপুল চন্দ্র দে।

ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিপুল চন্দ্র দে। © টিডিসি ছবি

ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে কর্মস্থল থেকে শেষবারের মতো বিদায় নিলেন শিক্ষক। ফুলের শুভেচ্ছা, শিক্ষার্থীদের করতালি, সম্মানসূচক স্যালুট ও বিদায়ী গানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৭ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিপুল চন্দ্র দে। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাঁকে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে জানালেন ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার রাজকীয় বিদায়।

বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর)  সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় স্কাউট সদস্য ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা করতালি ও ফুল দিয়ে বিপুল চন্দ্র দেকে শুভেচ্ছা জানান। প্রাত্যহিক সমাবেশে তাঁকে সম্মানসূচক স্যালুট দেওয়া হয় এবং পরিবেশিত হয় বিদায়ী সংগীত। পরে বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের স্মৃতিচারণ, শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, মানপত্র পাঠ ও বিতরণ, নাটিকা উপস্থাপন, উত্তরীয় পরিধান, ধর্মীয় গ্রন্থ গীতা প্রদান এবং উপহার বিতরণ করা হয়।

জানা যায়, বিপুল চন্দ্র দে ১৯৮৯ সালের ১ আগস্ট করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানে প্রায় ২২ বছর গণিতের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১১ সালের ১ অক্টোবর জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে দীর্ঘসময় সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ১৫ বছর দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সততা ও নিষ্ঠার সাথে ভূমিকা রাখেন। 

দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে তিনি বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিপুল চন্দ্র দে। পরে তাঁকে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়। দীর্ঘ কর্মজীবনের পর প্রিয় শিক্ষকের এমন ব্যতিক্রমী বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অতিথিরা।

বিদায়ী শিক্ষক বিপুল চন্দ্র দে বলেন, শিক্ষকতা তাঁর কাছে শুধু একটি পেশা নয়, বরং জীবনের সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা পরিষদের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা ও ভালোবাসার কথা তিনি আজীবন স্মরণ রাখবেন।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। সততা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ ধারণ করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আবুল হাশেম ভূঁইয়া বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিপুল চন্দ্র দে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল আলম বলেন, বিপুল চন্দ্র দে শুধু একজন দক্ষ শিক্ষকই নন, তিনি বিদ্যালয় পরিবারের একজন অভিভাবক ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর অবদান বিদ্যালয়ের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

‘এইচএসসিতে সবচেয়ে ফেল আইসিটিতে, অনার্স পাস করা আইসিটি গ্র্য…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ কলেজে শতভাগ ফেল
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
জিপিএ-৫ কমেছে ক্যাডেট কলেজেও, ১২ কলেজের কোনটির ফল কেমন
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
মাদ্রাসা বোর্ডে জিপিএ-৫ এ শীর্ষে দারুননাজাত
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ভবিষ্যতে মানুষ পরিচয় দেবে— ‘আমি কিন্তু বিএনপি আমলে পাস করেছ…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১৩০ পরীক্ষার্থীর ১০০ জনই ফেল, নেই কোনো জিপিএ-৫, এইচএসসিতে ক…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬