ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার © টিডিসি ফটো
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে এক হাজতির পলায়নের ঘটনায় ডেপুটি জেলারসহ আটজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে অন্য এক আসামির নাম ব্যবহার করে কারাগারের প্রধান ফটক দিয়ে পালিয়ে যান ওই হাজতি। দায়িত্ব অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার সময় কারাগারের মুক্তি শাখা, ভর্তি শাখা, আইসিটি ও পিসিআইডিএস শাখার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম গাফিলতি লক্ষ্য করা গেছে। দায়িত্ব অবহেলার দায়ে বরখাস্তকৃতরা হলেন— ডেপুটি জেলার মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, প্রধান কারারক্ষী শাহাদাত হোসেন এবং কারারক্ষী মোরশেদ আলম, মো. হানিফ মিয়া, শাহাব উদ্দিন, রবিউল আলম, মো. জাহিদ হাসান ও মোহাম্মদ আবু খায়ের।
কারা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পলাতক হাজতি হৃদয় (২৮) কসবা থানার নিমবাড়ি এলাকার মুজিবুর মিয়ার ছেলে পলাতক আসামী হৃদয়ের হাজতি নং-১২০০৪। আখাউড়া থানার জি আর-৪২০/২০১৮ নম্বর হত্যা মামলার আসামি। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।গত বৃহস্পতিবার(২৯ জানুয়ারি ২০২৬)সকাল আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটে অন্য বন্ধীদের যোগসাজশে বরাতোক্ত স্বারকে এসএল নং ০১/২৬ নবীনগর থানার জিডি নং ৭৪২ /১৫১ ধারার আসামি মামলা থেকে অব্যহতিপ্রাপ্ত আসামী হাজতি নং-৪৮১/২৬ দিদার হোসেনের নাম ঠিকানা ব্যবহার করে জামিনপ্রাপ্ত বন্দিদের মুক্তি প্রক্রিয়া চলাকালে হৃদয় সুকৌশলে পালিয়ে যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. ওবায়দুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, 'পলাতক হাজতিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
কারা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নথিপত্র যাচাইয়ে অবহেলা এবং গেট পর্যায়ে পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। পলাতক বন্দিকে উদ্ধারে পুলিশের পাশাপাশি কারা কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। এ ঘটনায় কারাগারের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।