রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পবিত্র আঙিনায় আড্ডারত অবস্থায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলামকে (রাকিব) নৃশংসভাবে হত্যার নেপথ্যে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীরা বলছেন, এটি কোনো তাৎক্ষণিক উত্তেজনা নয়, বরং ‘প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বে’র জেরে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এমনকি রাকিবকে সরিয়ে দিতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের নির্দিষ্ট এলাকা থেকে ভাড়াটে খুনিদেরও ব্যবহার করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গত রবিবার রাতে বোরহান উদ্দিন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলাম বন্ধুদের নিয়ে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে আড্ডা দিচ্ছিলেন। রাত সোয়া ৯টার দিকে তিনি মোটরসাইকেল পার্ক করে বসার পরপরই ওত পেতে থাকা ৫-৬ জন সশস্ত্র হামলাকারী তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘাতকরা প্রথমে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং পরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে রাকিবের শরীরে পাঁচটি গভীর কোপের চিহ্ন এবং পিঠ ও পেটে গুলির ক্ষত পাওয়া গেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই নৃশংস হামলায় সাত থেকে আটজন সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের একটি প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ গ্রুপটি রাকিবকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে এই অপারেশন চালায়
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জান্নাত মুন ও সাজিদ নজরদারিতে রয়েছেন। ডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটরের মাদক কারবারে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে এবং এই চক্রের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাকিবের শরীরে অন্তত পাঁচটি গভীর কোপের চিহ্ন এবং পিঠ ও পেটে গুলির ক্ষত রয়েছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মোটরসাইকেল পার্ক করার পরপরই ওত পেতে থাকা ৫-৬ জন সশস্ত্র হামলাকারী তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিঠু ফকির জানান, ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা চাপাতিসহ একজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। সেই সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে রাকিবুল ইসলাম (২৭) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের মৃত্যু হয়েছে। পরে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ ফারুক নিশ্চিত করেন, রাত ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।