বয়স জালিয়াতি করে রিমান্ড আবেদন
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তাহরিমা জান্নাত সুরভী © ফাইল ফটো
চাঁদাবাজির মামলায় জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বয়স জালিয়াতির ঘটনায় ইতোমধ্যেই তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছেন আদালত। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ওমর ফারুক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেছিলেন, সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের দায়ের করা এজাহার অনুযায়ী সুরভীর বয়স উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও সেখানেও এক বছর বাড়তি দেখিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: ১৭ বছরকে ২১ দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন, সেই সুরভীর ২ দিনের রিমান্ড
তবে একইদিনে দায়ের করা ধর্ষণচেষ্টা মামলাতেও সুরভীর বয়স ১৭ বছরই উল্লেখ করা হয়েছিল। সে মামলারও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফারুক। সাংবাদিক দুর্জয়ের এজাহারে উল্লেখ থাকা ২০ বছর বাড়িয়ে ২১ করলেও সুরভীর মায়ের দাবি আমলেই নেননি তিনি।
আরও পড়ুন: ‘অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানো হয় সুরভীকে’
মামলার নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, গত ২৬ জানুয়ারি একই থানায় মামলা দুটি দায়ের করা হয়। এর মধ্যে দুর্জয়ে করা চাঁদাবাজির মামলার নম্বর ৩৮ এবং সুরভীর মায়ের করা ধর্ষণচেষ্টার মামলার নম্বর ৪০। উভয় মামলার এজাহারেই প্রায় একই ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মামলায় আছে ৫০ হাজার, গণমাধ্যমে হয়ে গেল ৫০ কোটি টাকা!
এর আগে বিকেলে বয়স সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ওমর ফারুক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেছিলেন, সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) সুরভীর বয়স উল্লেখ করেছিলেন তিনি। তবে এজাহার আর এফআইআরে বয়সের ব্যবধানের বিষয়টি উল্লেখ করা হলে এজাহার দেখতে হবে বলেও জানান তিনি। ওই সময়ে তিনি আরও বলেন, সুরভীর জন্ম নিবন্ধনের কপি চেয়েও পাননি তিনি।
আরও পড়ুন: ‘মা, টাকা দিই নাই এজন্য এসআই ফারুক রিমান্ড চাইছে’
তবে উভয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হয়েও এক মামলার এজাহারে উল্লেখ থাকা বয়স আমলে নেননি কেন এ বিষয়ে জানতে পরবর্তীতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
সন্ধ্যায় কালিয়াকৈর থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সুরভীর ধর্ষণচেষ্টা মামলার বিষয়ে জানতেন না। জেনে কথা বলবেন বললেও পরবর্তীতে তাকে আর পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: সেই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছিলেন সুরভী
তিনি জানান, উভয় মামলা দায়ের হওয়ার পরে তিনি কালিয়াকৈর থানায় যোগ দিয়েছেন। বয়সে গড়মিল থাকলে সেটি আদালত দেখবে বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।