সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শান্তা ফারজানা আয়াসকে মারধর করছেন © সংগৃহীত
জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে উত্তেজনার ঘটনায় নতুন ধারা বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাসহ দলের ছয় নেতাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে শাহবাগ থানা পুলিশ। এর আগে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার রাতে কড়া নিরাপত্তায় তাদের শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়।
ছয়জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) রাব্বানী।
সকালে শাহবাগ পুলিশের একটি সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানায়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও শহীদদের নিয়ে কটূক্তির জেরে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে। তারপর আদালতে চালান দেওয়া হবে আজ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নতুন ধারা বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, ভাইস চেয়ারম্যান ড. নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মণ্ডল এবং হরিদাস সরকার।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিন বলেন, ঢাকা মেডিকেলে দলের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহাসচিবসহ ছয়জন অবরুদ্ধ ছিলেন। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় তাদের শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়েছে।
ঢামেক থেকে থানায় নেওয়ার সময় নতুন ধারা বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের ‘ইনকিলাব, জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এর আগে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও শহীদদের নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গত শনিবার নতুন ধারা বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাকে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াস চড় মারেন। এরও আগে ১ আগস্ট নতুন ধারা বাংলাদেশের কার্যালয়ে শান্তা ফারজানাকে মারধরের অভিযোগ করে দলটি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ওই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় নতুন ধারা বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম পৃথক কর্মসূচি পালন করছিল। একপর্যায়ে দুই পক্ষের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে কয়েকজন আহত হন।
এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শান্তা ফারজানাসহ কয়েকজন আ ন ম আয়াসকে মারধর করছেন। একপর্যায়ে আয়াস মাটিতে পড়ে গেলে শান্তা ফারজানাকে একটি কালো রঙের লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, সংঘর্ষের একপর্যায়ে আয়াসও শান্তা ফারজানাকে পাল্টা আঘাত করছেন।
আরও পড়ুন: ছুটির দিনে রাজধানীতে আজ দুই বড় কনসার্ট, মঞ্চ মাতাবেন যেসব শিল্পী
প্রেসক্লাবের সংঘর্ষের পর আহত উভয় পক্ষের সদস্যরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে ‘মঞ্চ-২৪’-এর নেতা–কর্মীরা আয়াসের সমর্থক পরিচয়ে শান্তা ফারজানা ও নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর পক্ষের লোকজনের সঙ্গে আবারও সংঘর্ষে জড়ান বলে অভিযোগ ওঠে। শান্তা ফারজানার পক্ষের দাবি, মঞ্চ-২৪-এর নেতা–কর্মীরা হাসপাতালের ভেতরে তাদের বেশ কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকে। পরে তা চালু হলেও পরবর্তী হামলার ঘটনায় আবারও চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়।
শান্তা ফারজানা দাবি করেন, তারা প্রেসক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিলেন। বক্তব্য চলাকালে আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে চেয়ারম্যানসহ ছয়জন আহত হন। পরে চিকিৎসার জন্য ঢামেকে গেলে ২০ থেকে ২৫ জন তাদের ওপর আবার হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হন এবং তার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াস অভিযোগ করেন, শান্তা ফারজানা ও তার সহযোগীরা শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং ধর্ম অবমাননা করেছেন। এর প্রতিবাদ করলে শান্তা ফারজানা, মোমিন মেহেদীসহ ৩০ থেকে ৪০ জন তাদের ওপর হামলা চালান। পরে চিকিৎসার জন্য ঢামেকে গেলে সেখানেও তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। এতে তাদের কয়েকজন নেতা–কর্মী আহত হন।
ঘটনার পর মঞ্চ-২৪-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শহীদ আবু সাঈদ এবং ধর্মকে নিয়ে কটূক্তি নতুন বাংলাদেশে মেনে নেওয়া হবে না।