চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, মামলা নিতে দুই থানার গড়িমসি

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪১ PM
নিহত সুজন মিয়া

নিহত সুজন মিয়া © ফাইল ছবি

ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকানে চুরির অপবাদে পিটিয়ে হত্যার ১৩ দিন পরও মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মামলা করতে গিয়ে দুই থানার পুলিশের কাছে ঘুরেও সাড়া মিলছে না। ঘটনাটি নিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর ও ময়মনসিংহের ভালুকা থানার পুলিশের মধ্যে মামলা গ্রহণের এখতিয়ার নিয়ে গড়িমসি চলছে। 

নিহত সুজন মিয়া (৩৫) শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া গ্রামের আমিনুল হক কালুর ছেলে। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি এলাকার আবদার পাড়ায় তাসলিমার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় একটি ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকানে চুরির সন্দেহে সুজনকে মারধর করা হয়। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। মারধরকারীরা তাকে মৃত মনে করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে গাজীপুরের শ্রীপুরের দিকে নিয়ে যান এবং জৈনা বাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফুটওভার ব্রিজের নিচে একটি ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে চলে যান।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে দেখতে পেয়ে মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুজনকে উদ্ধার করে। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে ৮ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রামের বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মৃত্যুর আগে সুজন আশপাশের লোকজনকে জানিয়েছিলেন, ভালুকার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার কয়েকজন তাকে চোর সন্দেহে মারধর করেছেন। গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে গাজীপুরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পথে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

নিহত সুজনের চাচা মানিক মিয়া বলেন, ৮ সেপ্টেম্বর রাতে মরদেহ বাড়িতে এনে দাফন করা হয়েছে। সুজনের দুই সন্তান নানার বাড়িতে থাকে এবং তার স্ত্রী জর্ডানে থাকেন। পারিবারিকভাবে আলোচনা করে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এদিকে মামলা গ্রহণের বিষয়ে দুই থানার পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনূর আলম বলেন, ভালুকার মাস্টারবাড়ি এলাকায় একটি ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকানে চুরির সন্দেহে সুজনকে মারধর করা হয় বলে তারা জানতে পেরেছেন। পরে তাকে সিএনজিতে করে জৈনা বাজার এলাকায় ফেলে যাওয়া হয় এবং সেখানে তার মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, মারধরের ঘটনা ভালুকা থানা এলাকায় হওয়ায় মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ভালুকা থানায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভালুকা থানায় মামলা হওয়ার কথা। তাদের থানায় এ বিষয়ে করার কিছু নেই।

অন্যদিকে ভালুকা মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সুজনকে ভালুকা থানা এলাকায় মারধর করা হলেও তার মৃত্যু হয়েছে শ্রীপুর থানা এলাকায়। তাই তাদের থানায় মামলা নেওয়ার সুযোগ নেই। শ্রীপুর থানায় মামলা হওয়ার পর তদন্তের প্রয়োজনে তাদের কাছে এলে পুলিশ সহযোগিতা করবে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামিন বলেন, মারধরের ঘটনা ভালুকায় হলেও সুজনের মৃত্যু হয়েছে শ্রীপুর থানা এলাকায়। আইনগত ব্যবস্থা শ্রীপুর থানা পুলিশই নেবে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ভালুকা থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি তার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।

মাদক নির্মূলে শিক্ষাকে কাজে লাগানোর আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
  • ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ক্যাম্পাসের অবৈধ ও ভাসমান দোকান সরাতে আল্টিমেটাম দিল ঢাবি প…
  • ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির সেমিনারে এআইয়ের ‘হ্যালুসিনেশন’ ও…
  • ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন স্কালোনি
  • ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে আটকদের বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রম…
  • ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জিএসটি গুচ্ছে আরেকটি ইউনিট বাড়ল, কারা অংশ নেবেন সেখানে?
  • ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬