একই দিনে দুই মামলা
তাহরিমা জান্নাত সুরভী, সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও ইনসেটে মঈনুল ইসলাম © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির সংগঠক তাহরিমা জান্নাত সুরভীর কথিত চাঁদাবাজির মামলা এবার নতুন মোড় নিয়েছে। গত ২৬ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পরপরই সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুলেছিলেন সুরভী। তার মা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। একই দিন কিছু আগে-পরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় এই দুটি মামলা দায়ের হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম বলছেন, ধর্ষণচেষ্টার মামলায় আগাম জামিন পেয়েছিলেন সেই সাংবাদিক দুর্জয়। অথচ ভুয়া একটি মামলায় সংবাদমাধ্যম থেকে আদালতে আইনের চরম লঙ্ঘন পর্যন্ত চরম হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে সুরভীকে।
আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে মঈনুল ইসলাম লিখেছেন, ‘গত ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশ প্রতিদিন মাল্টিমিডিয়ার সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয় গাজীপুরের চান্দরা চৌরাস্তায় একটি ইন্টারভিউ নেওয়ার কথা বলে সুরভীকে ডেকে নেন। পূর্বপরিকল্পিতভাবে তিনি সুরভীকে সেখানে না নিয়ে কালিয়াকৈর থানার সফিপুর বাজারের পাশে মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদের ঠিক বিপরীতে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। সুরভী চিৎকার করে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ২৬ নভেম্বর সুরভীর মা বাদি হয়ে নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বিরুদ্ধে কালিয়াকৈর থানায় ধর্ষণচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু অভিযুক্ত ধর্ষককে গ্রেপ্তার না করে আওয়ামী পুলিশ উল্টো সুরভীকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করতে থাকে।’
তিনি লিখেছেন, ‘মামলা হওয়ার পরপরই প্রভাবশালী উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের আদালতে অভিযুক্ত ধর্ষক নাঈম আগাম জামিন পেয়ে যায়। আগাম জামিন নিয়ে নাঈম সুরভী ও তার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিডিয়া ট্রায়াল চালায়। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওমর ফারুক সুরভীর কাছে ঘুষ দাবি করে।’
মঈনুল লিখেছেন, ‘এখন আমরা দেখতে চাই, এই অভিযুক্ত এসআই ওমর ফারুক, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয় এবং মামলা দায়েরের পরও যারা তাকে গ্রেপ্তার না করে জামিন দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী উপদেষ্টা আসিফ নজরুল কী পদক্ষেপ নেন। আসিফ নজরুল যদি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেন, তবে বাকি পদক্ষেপ আমরা নিজেরাই নিতে বাধ্য হব।’