জুলাই রান-২০২৬ নিয়ে ডাকসুর নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৭ PM
জুলাই রানের পোস্টার

জুলাই রানের পোস্টার © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ও স্পোর্টস বাংলা আয়োজিত ‘জুলাই রান-২০২৬’ ম্যারাথনকে ঘিরে অব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা, নিবন্ধন জটিলতা এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে অসন্তোষজনক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তাদের বক্তব্যে আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সেলিম রেজা অভিযোগ করেন, তিনি গত ২৮ জুলাই ৭০০ টাকা দিয়ে ম্যারাথনের জন্য নিবন্ধন করেন। তবে নিবন্ধনের পর কোনো কনফার্মেশন বার্তা পাননি। বিষয়টি জানতে আয়োজকদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয় যে তার নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে এবং পরে বার্তা পাঠানো হবে। কিন্তু ম্যারাথনের দিন সকাল পর্যন্তও তিনি কোনো কনফার্মেশন পাননি।

তিনি জানান, বাধ্য হয়ে নিজেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফিল্ডে যান। সেখানে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদকের সঙ্গে কথা বললেও কার্যকর কোনো সমাধান পাননি। পরে স্পোর্টস বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা তাকে জানান, প্রায় ১ হাজার ৯০০ জন অংশগ্রহণকারীর আয়োজন সামলাতে গিয়ে সবার কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। অথচ সময়মতো নিবন্ধন ও ফি পরিশোধ করার পরও তিনি শুধুমাত্র আয়োজকদের সমন্বয়হীনতার কারণে ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি বলে দাবি করেন। তার অভিযোগ, ঘটনাস্থলে গিয়েও কোনো সমাধান না পেয়ে একের পর এক অজুহাত শুনতে হয়েছে। তিনি রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধের রসিদ ও ফোনকলের প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান।

শিক্ষার্থী সাব্বির আহম্মেদ অভিযোগ করেন, আয়োজকদের সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত অংশগ্রহণকারী নিবন্ধন নেওয়ায় পুরো আয়োজনেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তার দাবি, হাইড্রেশন পয়েন্টে পর্যাপ্ত পানি ও ইলেক্ট্রোলাইটের ব্যবস্থা ছিল না। প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংকটের কারণে স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণকারীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাইড্রেশন বুথ নির্ধারিত স্থানে না রেখে অন্যত্র স্থাপন করা হয়। এছাড়া সারারাত দায়িত্ব পালন করা স্বেচ্ছাসেবকদের সবাইকে মেডেল দেওয়ার কথা থাকলেও পরে অনেকের গলা থেকে মেডেল খুলে নেওয়া হয়, যা তাদের জন্য অপমানজনক অভিজ্ঞতা ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অপর শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন ফি ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহারের যৌক্তিকতা এবং অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত কিছু নকশা ও প্রতীকের ব্যাখ্যাও ডাকসুর কাছে জানতে চান।

এদিকে অংশগ্রহণকারী ছগির আহম্মেদ তার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এটি তার প্রথম ম্যারাথন হলেও আয়োজন নিয়ে তিনি চরম হতাশ। তার অভিযোগ, ৭০০ টাকা নিবন্ধন ফি অনুযায়ী আয়োজনের মান ছিল না। হাইড্রেশন সাপোর্ট ছিল দুর্বল, খাবারের মানও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। স্পন্সর থাকলেও তার প্রতিফলন অংশগ্রহণকারীদের কিট বা অন্যান্য সুবিধায় দেখা যায়নি বলেও তিনি দাবি করেন। এছাড়া টি-শার্ট, ছাতা ও মেডেলের মান নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।

অভিযোগকারীদের দাবি, শুরু থেকেই জুলাই রান আয়োজন নিয়ে সমন্বয়হীনতা ছিল। নিবন্ধন প্রক্রিয়া, অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ, হাইড্রেশন ও ফুড সাপোর্ট, ভলান্টিয়ার ব্যবস্থাপনা এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্বলতা দেখা গেছে। এসব বিষয়ে তারা আয়োজকদের জবাবদিহি এবং ভবিষ্যতে আরও পরিকল্পিত ও অংশগ্রহণবান্ধব আয়োজন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নোবিপ্রবিতে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক নেতাকে সদস্যসচিব করে জুলাই ড…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
জুলাই রান-২০২৬ নিয়ে ডাকসুর নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ, ক্ষো…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
খেলা চলাকালীন মাঠেই বজ্রাঘাতে ফুটবলারের মৃত্যু
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
ঢাবিতে ৫০ শহীদ পরিবার নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ‘জুলাই নির্ভী…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে পবিপ্রবি ছাত্রদ…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
বৃষ্টিতে বদলে গেল সমীকরণ, বাছাইপর্ব খেলতে হবে আয়ারল্যান্ডকে
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬