অধ্যাপক নাহরীনের পক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে সই জালিয়াতির অভিযোগ

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৯ PM
 অধ্যাপক নাহরীন

অধ্যাপক নাহরীন © সংগৃহীত ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সিন্ডিকেটে রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্য হিসেবে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরীন আই খানকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাবেক জাকসু ও ছাত্রদল নেতাদের নাম ও স্বাক্ষর অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিবৃতিতে নাম থাকা চার সাবেক ছাত্রনেতা দাবি করেছেন, তাঁরা ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেননি এবং এ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা যোগাযোগও করা হয়নি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে তাঁর একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণা, আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী হিসেবে ৩২ জন সাবেক জাকসু ও ছাত্রদল নেতার নাম রয়েছে।

তবে বিবৃতি প্রকাশের পরপরই নাম থাকা কয়েকজন এর স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের মধ্যে সাবেক জাকসু ভিপি ও মওলানা ভাসানী হলের সাবেক ছাত্র সংসদ নেতা মো. রাজিব উল হালিম, মীর মোশাররফ হোসেন হল সংসদের সাবেক জিএস ড. ফারুক আহম্মদ শিপন, সাবেক ভিপি মো. আলমগীর হোসেন এবং আফম কামাল উদ্দিন হল সংসদের সাবেক ভিপি ওয়াহিদুজ্জামান মিলন।

তাদের দাবি তাদের অনুমতি ছাড়াই তাদের নাম ও স্বাক্ষর দেওয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে রাজিব উল হালিম বলেন, জাবির সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে নিয়োগের জন্য নাহরীন খানের নামের পক্ষে আমি কোনো প্রকার স্বাক্ষর প্রদান করিনি। আমার সঙ্গে কারও কোনো প্রকার আলাপ-আলোচনা হয়নি এবং আমি কাউকে আমার পক্ষে স্বাক্ষর করার অনুমতিও প্রদান করিনি।

ড. ফারুক আহম্মদ শিপন বলেন, ‘জাবির সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার জন্য নাহরীন খানের নামের পক্ষে কোনো স্বাক্ষর আমি করিনি। আমার এই নাম এবং স্বাক্ষর কীভাবে এলো, আমার জানা নেই।’ 

মো. আলমগীর হোসেনও অধ্যাপক নাহরীন আই খানের নামের পক্ষে স্বাক্ষর করার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর নাম ও স্বাক্ষর কীভাবে বিবৃতিতে এসেছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন।

ওয়াহিদুজ্জামান মিলন বলেন, আমি কোথাও স্বাক্ষর প্রদান করিনি, আর এ বিষয়ে আমি জানিও না। 

অন্যদিকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন রুনুকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত সিন্ডিকেট সদস্য করার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি আবেদন দেন সাবেক ছাত্রদল ও জাকসু নেতাদের একটি অংশ। অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের পক্ষে দেওয়া আবেদন এবং অধ্যাপক নাহরিন আই খানের পক্ষে দেওয়া বিবৃতিটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে সিন্ডিকেট সদস্য করার দাবিতে দেওয়া আবেদন এবং অধ্যাপক নাহরীন আই খানকে একই পদে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে দেওয়া বিবৃতিতে চারজনের নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে। অর্থাৎ একই ব্যক্তিরা প্রথমে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন এবং পরে অধ্যাপক নাহরীন আই খানের পক্ষে দেওয়া নথিতে স্বাক্ষর করেছেন।

এ বিষয়ে জাকসুর নবম জাকসুর এজিএস মোখলেছুর রহমান বাদল বলেন, ‘অধ্যাপক নাহরিনের পক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, তাঁদের বলা হয়েছিল সিন্ডিকেটে দুটি পদ রয়েছে। তাই একজনের পক্ষে স্বাক্ষর করার পর অন্যজনের পক্ষে স্বাক্ষর করলেও কোনো সমস্যা নেই। এভাবে বিষয়টি বুঝিয়ে তাঁদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। কিন্তু পরে দেখা গেছে, বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসের বর্তমান অভ্যন্তরীণ বিষয় সম্পর্কে অনেক সাবেক নেতা এখন নিয়মিতভাবে অবগত নন। ফলে তাঁদের এভাবে বুঝিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়ে থাকলে সেটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। আমরা যাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁরা যে বিষয়টি বুঝে সম্মতি দিয়ে স্বাক্ষর করেছিলেন, পরে সেটি অন্যভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. নাহরীন আই খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

নগদ অ্যাপে আইএফআইসি ব্যাংকের সঞ্চয় ও ঋণসেবা, সমঝোতা চুক্তি
  • ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিভাসুর নতুন উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ইউসুফ ইলাহী চৌধুরী
  • ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কলারশিপে স্নাতক-স্নাতকোত্তরে পড়ুন নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্…
  • ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইবিতে ফুটবল টুর্নামেন্টে মারামারির ঘটনায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন …
  • ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অধ্যাপক নাহরীনের পক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে সই জালিয়াতির অভিযোগ
  • ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে ঢাকায় এসে জানলেন— ‘তিনি আর চুয়েটের ভিস…
  • ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬