গ্রেপ্তারকৃত ২জন © সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকায় কাজের বুয়া সেজে একটি বাসায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গৃহকর্ত্রীর মাকে অচেতন করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগে মূল অভিযুক্ত নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পল্লবী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো—মোসা. শিউলী বেগম ওরফে লাকী (৪৬) এবং জুয়েলারি দোকানের কারিগর মো. নাদিম হোসেন (৩১)।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে কাফরুল থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাঁদের হেফাজত থেকে ৮ ভরি ১ আনা ২.৫ রতি চোরাই স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।
পল্লবী থানা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৬ অক্টোবর গৃহকর্ত্রী সাবিহা মাহবুবা অভিযুক্ত শিউলী বেগমকে তার বাসায় কাজের জন্য নিয়োগ দেন। ৮ অক্টোবর সকালে সাবিহা কর্মস্থলে যাওয়ার পর বাসায় তার স্বামী, সন্তান ও বৃদ্ধা মা ছিলেন। রাত ৮টায় সাবিহা বাসায় ফিরে দেখেন তার মা অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন এবং ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার খোলা। ড্রয়ার থেকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা মূল্যের ৯ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা চুরি হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত হন। সাবিহার মা সুস্থ হওয়ার পর জানান, শিউলী তাঁকে পেঁপে ভাজি খাইয়েছিল, যা খাওয়ার পরই তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।
ভুক্তভোগী সাবিহা মাহবুবার অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল (৩ জানুয়ারি ২০২৬) পল্লবী থানায় একটি চুরির মামলা রুজু হয়। মামলা হওয়ার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাফরুল এলাকা থেকে প্রথমে শিউলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিউলী চুরির সত্যতা স্বীকার করে এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদাবর এলাকার ‘প্রভা জুয়েলার্স’ থেকে গলানো স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। চোরাই মাল ক্রয় ও সংরক্ষণের দায়ে দোকানের কারিগর নাদিম হোসেনকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পল্লবী থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত শিউলী একজন পেশাদার চোর। তিনি ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় একই কৌশলে কাজের বুয়া সেজে অসংখ্য চুরির ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।