মেগান শুট © সংগৃহীত
প্রেসক্রিপশনের ওষুধ ব্যবহারে নির্ধারিত নিয়ম না মানায় দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসার মেগান শুট। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। এই শাস্তির কারণে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচ এবং নারী বিগ ব্যাশ লিগে (ডব্লিউবিবিএল) অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন না ৩৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশ সফরের আগে বিরতির সময় নিয়মভঙ্গের ঘটনাটি ঘটে। প্রতিযোগিতার বাইরে থাকাকালে ব্যক্তিগত প্রেসক্রিপশনের ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ না করায় তদন্তের মুখে পড়েন শুট। তদন্ত শেষে নিজের ভুল স্বীকার করে শাস্তি মেনে নিয়েছেন তিনি। তবে এই ঘটনার সঙ্গে পারফরম্যান্স বাড়ানোর কোনো উদ্দেশ জড়িত ছিল না বলে জানিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
এক বিবৃতিতে সিএ জানায়, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্পোর্টস সায়েন্স ও স্পোর্টস মেডিসিন বিভাগের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণে ব্যর্থ হয়েছেন শুট। ঘটনাটি একবারই ঘটেছে এবং এর পেছনে পারফরম্যান্স বাড়ানোর কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট—উভয় ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে তাঁর দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।
নিজের ভুলের দায় স্বীকার করে শাস্তি মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শুটও। তিনি বলেন, ‘আমার ওপর দেওয়া শাস্তি আমি পুরোপুরি মেনে নিচ্ছি। প্রত্যাশিত মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় আমি দুঃখিত। এই ঘটনা নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার জন্যও ক্ষমা চাইছি। যারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
নিয়ম অনুযায়ী, পারফরম্যান্স বাড়ানোর উদ্দেশ্য ছাড়া ব্যক্তিগত চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রেসক্রিপশনের ওষুধ ব্যবহার করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে ওষুধটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য হতে হবে এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও অ্যান্টি-ডোপিং কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে। সেই নির্দেশনা অনুসরণে ব্যর্থ হওয়ায় শাস্তির মুখে পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার।
তদন্ত চলাকালেও মাঠে ছিলেন শুট। এ সময়ে তিনি মোট চারটি ম্যাচ খেলেছেন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে উইমেন্স ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগের একটি ম্যাচে ৪৯ রান দিয়ে নিয়েছেন দুটি উইকেট। এরপর বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে তার উইকেটসংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২, ৪ ও ৪টি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টি-টোয়েন্টির জন্যও বিবেচনায় ছিলেন তিনি, যদিও কোনো ম্যাচেই একাদশে জায়গা পাননি।
তদন্ত শেষ হওয়ায় এবার দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে শুটের ওপর। বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে খেলতে পারবেন না তিনি। এরপর ৩১ অক্টোবর মেলবোর্ন স্টার্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ডব্লিউবিবিএলে অভিযান শুরু করবে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স। সেই ম্যাচেও দলের বাইরে থাকতে হবে অস্ট্রেলিয়ার এই পেসারকে।