৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আর দেশে ফেরা হয়নি সাকিব আল হাসানের। দেশের বাইরে থেকেই পাকিস্তান এবং ভারতের মাটিতে সেই বছরে খেলেছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক। পরে দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলে অবসর নিতে চাইলেও শেষমেশ তা সম্ভব হয়ে উঠেনি।
তবে, দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দেশের বাইরে থাকলেও জাতীয় দলের জার্সিটা বেশ ভালোভাবেই মিস করেন সাবেক বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। সম্প্রতি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের আবারও সেটাই জানিয়েছেন সাকিব।
তার ভাষ্যমতে, ‘হ্যাঁ, সেটা তো যে কেউই মিস করবে। ধরুন, এই যে মুশফিক (ভাই), বা আরও আগের হাবিবুল বাশারের (ভাই) কথা যদি বলি, যারা জাতীয় দলে খেলেছেন, দল থেকে বেরিয়ে প্রত্যেকেই সেটা মিস করেন, এটাই স্বাভাবিক। এটা একটা বিশেষ জায়গা।’
সাধারণত অবসর নিয়েই জাতীয় দলকে বিদায় জানান ক্রিকেটাররা। তবে সাকিবের ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন। মূলত খেলতে না পারা কিংবা দেশের ফিরতে না পারার পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাই জড়িত। তবে, বারবার ইচ্ছে প্রকাশ করলেও দেশের ক্রিকেটের এই পোস্টারবয়ের লাল-সবুজের জার্সিতে নিজের শেষ অধ্যায়টা লেখা হচ্ছে না। এ নিয়ে মাঝেমাঝে কষ্টও অনুভব করেন তিনি।
সাকিব বলেন, ‘সেটা তো অবশ্যই ভিন্ন। তবে আফসোস কখনো লাগেনি। টেলিভিশনে দলের খেলা দেখেও কখনো মনে হয় না যে আমি তো খেলছি না! কয়েকবার সাসপেন্ড-টাসপেন্ড হয়ে অভ্যাস হয়ে গেছে মনে হয় (হাসি)। ওইটা মিস করি না। হ্যাঁ, খেলতে পারছি না, এটার কষ্ট তো আছেই।’
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড থাকাকালীন সাকিবকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই বোর্ড ভেঙে যাওয়ায় সেই আলোচনাও অন্ধকারে মিলিয়ে যায়। এ নিয়ে সাকিবও নিজের অবস্থান পরিস্কার করেছেন।
তার ভাষ্য, ‘কোনো অবস্থায় নেই। আমি আইনগতভাবে যা করা সম্ভব করছি। আশা করি, অন্তত একটা বিষয় খুব তাড়াতাড়ি সমাধান হয়ে যাবে। খুবই তাড়াতাড়ি। এরপর থাকবে দুটা কেস।’