তামিম ইকবাল © সংগৃহীত
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পরই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন তামিম ইকবাল। বিশেষ করে, মাঠে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের সুবিধা বাড়াতে কাজ শুরু করেন তিনি। গত শনিবার গ্যালারিও পরিদর্শন করেন সাবেক এই ওপেনার। সেখানে গিয়ে বাথরুমের অপরিচ্ছন্ন অবস্থা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, নিয়মিত তাদের প্রাপ্য বেতন পাচ্ছেন না পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।
সোমবার (৪ মে) ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী দিনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তামিম বলেন, ‘আমি নিজেই অবাক হয়েছি। গ্যালারিতে গিয়ে একজন বিদেশি দর্শক আমাকে বললেন, যদি ওয়াশরুমগুলো ঠিক করা যায়। ২০০৭ সালে স্টেডিয়াম হওয়ার পর থেকে বাথরুমে কোনো সংস্কার হয়নি, এটা ঠিক না।’
সেখানে কর্মরত এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কথাও তুলে ধরে তামিম বলেন, ‘‘আমরা প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে পাই’, তাদের এই কথা আমাকে নাড়া দেয়। পরে জানলাম ৬৫০ টাকা দেওয়া হয়, কিন্তু তারা ৩০০ টাকা পাচ্ছে কেন? জেনে যা শুনলাম, তা খুবই চমকপ্রদ। একটা কোম্পানি টেন্ডার পায়, কিন্তু বিসিবির লোকজন দিয়েই কাজ করানো হয়। কোম্পানি টাকা নিয়ে আবার অন্য একজনের মাধ্যমে কর্মীদের দেয়, আর মাঝখানে টাকা রেখে দেয়।’
তামিম আরও বলেন, ‘আমি বলেছি, আপনাদের ৬৫০ টাকা দেওয়া হয়, আপনি লাভ করবেন, খরচ থাকবে, ঠিক আছে। কিন্তু এই মহিলারা অন্তত ৫০০ টাকা পেতে পারে। মাঝখানে কোনো কাজ না করে ২০০ টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ অর্থহীন।’
এ বিষয়ে নিজের কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তামিম বলেন, ‘আজ থেকে আপনারা নিজেদের লোক দেবেন। প্রত্যেক কর্মীর নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকবে, সরাসরি সেখানে টাকা যাবে। প্রমাণসহ ফিন্যান্সে জমা দিলে তবেই বিল ছাড়ব। না হলে কন্ট্রাক্ট বাতিল করে ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে।’
ওভারটাইম নিয়েও অনিয়মের কথা তুলে ধরেন তামিম। তার ভাষ্যমতে, ‘কেউ ২৫-৩০ ঘণ্টা ওভারটাইম পাচ্ছে, আবার কেউ ৯০ ঘণ্টা। বুঝলাম এখানে সমস্যা আছে। যাদের সাথে সমঝোতা হয়েছে, তাদের ওভারটাইম বেশি দেখানো হচ্ছে, পরে সেই টাকা থেকে অংশ নেওয়া হচ্ছে।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে বোর্ডপ্রধান বলেন, ‘যারা ৭-১০ হাজার টাকায় পরিবার চালায়, তাদের থেকে ৫০০ টাকা নেওয়াও বড় অপরাধ। এই বিষয়ে আমি কোনো ছাড় দেবো না, এক শতাংশও না। আপনারাও (সাংবাদিকরা) এগুলো তুলে ধরবেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এভাবে দুর্নীতি করতে না পারে। আমি নিশ্চিত করতে চাই, কোনো গরিব মানুষের ক্ষতি যেন না হয়।’