শুটিং দলকে ভারতে যাওয়ার অনুমতির নেপথ্যে যে যুক্তি সরকারের © সংগৃহীত
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারত সফরের অনুমতি না পাওয়ায় কার্যত বিরল এক পরিস্থিতির মুখে পড়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোকে অনেকেই বয়কট হিসেবেই দেখছেন। তবে সেই সিদ্ধান্তের রেশ কাটতে না কাটতেই বাংলাদেশ শুটিং দলকে ভারত সফরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এই বিপরীতমুখী সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। ক্রিকেট দলের জন্য ভারত সফর অনিরাপদ হলেও শুটিং দলের জন্য কেন তা নিরাপদ, এই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। বিষয়টি নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তাপের মধ্যেই মুখ খুলেছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলম।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘অংশগ্রহণকারী কম হওয়ায়, নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় আমরা অনুমতি দিয়েছি। আমরা কেইস টু কেইস প্রতিটি বিষয় পর্যালোচনা করব। বাংলাদেশের মিশনের সাথে যোগাযোগ রাখছি। নিরাপত্তা বা কোনো বিষয়ে যদি শঙ্কিত হই আমরা পর্যালোচনা করব। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, শুটিং ফেডারেশন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সবার সাথে আলোচনা করে দেখেছি নিরাপত্তার হুমকি নেই। শুটিং যেহেতু রেস্ট্রিকটেড এরিয়াতে হয়ে থাকে। সেখানে দর্শক যারা যাবেন তারাও সীমিত আকারে যাবেন। আয়োজকরাও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।’
এদিকে ভারত সফরে নিরাপত্তা সংশয় নেই বলে জানিয়েছিল আইসিসিও। তবুও ক্রিকেট দলকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আইসিসি হলেও... ক্রিকেটের জন্য তারা অরগানাইজিং বডি, কিন্তু দেশটা হচ্ছে ভারত। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে যেহেতু মুস্তাফিজুর রহমানের হুমকির বিষয় ছিল, উপদেষ্টা মহোদয়ও বারবার বলেছেন আমরা ভারতের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টা পাইনি। আইসিসি তাদের পৃথক সিকিউরিটি এজেন্সি দিয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে যেহেতু এ ধরনের অনুরোধ পাইনি, এ কারণে পরবর্তীতে ভরসা করতে পারিনি দল পাঠাতে।’
সচিব যোগ করেন, ‘ভেন্যুর বিষয় না। মুস্তাফিজকে কেন্দ্র করেই এই বিষয়টি উদ্ভুত। শুধু ক্রিকেটার নয়, অনেক সাংবাদিকও যান, দর্শকও প্রচুর, সব মিলিয়েই শঙ্কার মধ্যে থাকায় ক্রিকেট দলকে পাঠাতে দ্বিধান্বিত ছিলাম এবং এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটার সাথে শুটিং মেলানো যাবে না। কেইস টু কেইস সবগুলো বিষয় পর্যালোচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’