চট্টগ্রামকে হারিয়ে বিপিএল চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স © টিডিসি
শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালটা শেষ পর্যন্ত জমেনি। সবার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম রয়্যালসকে কোনো সুযোগই দেয়নি রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। একপেশে লড়াইয়ে ৬৩ রানের বড় জয় তুলে নিয়ে উৎসবে মাতে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন রাজশাহী।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) হোম অব ক্রিকেটে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৭৪ রান তোলে রাজশাহী। জবাবে চাপ সামলাতে না পেরে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতল রাজশাহী। এর আগে ২০১৯–২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস নামেই প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দলটি। বিপিএলের সবচেয়ে সফল দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, তারা শিরোপা জিতেছে চারবার। তিনবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা, আর রাজশাহীর মতো দু'বার করে শিরোপা জিতেছে বরিশাল। একবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব আছে রংপুর রাইডার্সেরও।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই ধস নামে চট্টগ্রামের ইনিংসে। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেয় রাজশাহী। লঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো ওই ওভারে নাইম শেখ (৯) ও মাহমুদুল হাসান জয়কে (০) ফিরিয়ে দেন। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আক্রমণে এসে ফেরান হাসান নাওয়াজকেও (১১)। ছয় ওভারে ৩ উইকেটে ৪১ রান তুলতেই ব্যাকফুটে চলে যায় চট্টগ্রাম।
মিডল অর্ডারেও বিপর্যয় থামেনি। নিশামের বলে জাহিদুজ্জামান (১১) এবং হাসান মুরাদের বলে অধিনায়ক শেখ মেহেদী (৪) আউট হলে ম্যাচ একপ্রকার হাতছাড়া হয়ে যায়। ১২ ওভারে ৫ উইকেটে ৭২ রানে ধুঁকতে থাকে তারা।
একপ্রান্তে লড়াই চালান মির্জা তাহির বেগ, তবে দলীয় ৯২ রানে তিনিও বিদায় নেন। ৩৬ বলে ৩৯ রান করা তাহির মুরাদের বলে মুশফিকুর রহিমের স্টাম্পিংয়ের শিকার হন। শেষদিকে আমের জামাল ৮ রান করে নিশামের বলে বোল্ড হন।
১৭তম ওভারে আবারও জোড়া আঘাত হেনে আসিফ আলী ও শরিফুল ইসলামকে ফিরিয়ে চট্টগ্রামের ইনিংস গুটিয়ে দেন বিনুরা। শেষ পর্যন্ত ১১১ রানে অলআউট হয় চট্টগ্রাম।
রাজশাহীর হয়ে বিনুরা ফার্নান্দো নেন ৪টি এবং হাসান মুরাদ শিকার করেন ৩টি উইকেট।
এর আগে, টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। ব্যাট হাতে নেমেই দারুণ সূচনা পায় রাজশাহী। তানজিদ হাসান তামিমের আগ্রাসী ব্যাটিং ও সাহিবজাদার ধৈর্য্যশীল ইনিংসে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৮৩ রান। ৩০ বলে ৩০ রান করে আউট হন সাহিবজাদা ফারহান।
দ্বিতীয় উইকেটে কেন উইলিয়ামসনকে সঙ্গে নিয়ে আরও ৪৭ রানের জুটি গড়েন তানজিদ। শরিফুল ইসলামের বলে আউট হওয়ার আগে ১৫ বলে ২৪ রান করেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক।
এরপর একপ্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত ব্যাটিং চালিয়ে যান তানজিদ। ফিফটি ছোঁয়ার পর তুলে নেন সেঞ্চুরিও। এটি ছিল এবারের বিপিএলে তার চতুর্থ সেঞ্চুরি। পাশাপাশি বিপিএল ফাইনালে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে শতকের কীর্তি গড়েন তিনি, এর আগে এই কীর্তি ছিল ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবালের।
শেষ পর্যন্ত ৬২ বলে ১০০ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন তানজিদ, যেখানে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১১ রান, আর জিমি নিশাম ৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
চট্টগ্রামের পক্ষে শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম দুটি করে উইকেট শিকার করেন।