শেরপুরের যে মসজিদে প্রতিদিন একসাথে ইফতার করে পাঁচ শতাধিক রোজাদার

০৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৩ PM
ঐতিহ্যবাহী মাইসাহেবা জামে মসজিদ

ঐতিহ্যবাহী মাইসাহেবা জামে মসজিদ © টিডিসি ফটো

শেরপুরের আড়াইশো বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী মাইসাহেবা জামে মসজিদে প্রতিদিন শত শত রোজাদারের উপস্থিতিতে ইফতারের এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। রমজান মাসজুড়ে এখানে বিনামূল্যে ইফতারের আয়োজন করা হয়, যা এখন স্থানীয়দের কাছে এক অনন্য সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত।

প্রতিদিন বিকেল গড়াতেই মসজিদ প্রাঙ্গণে বাড়তে থাকে ব্যস্ততা। শহরের ব্যস্ত কোনো রেস্তোরাঁর মতোই প্রস্তুতি চলে ইফতারের জন্য। তবে এর পেছনে নেই কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য; আছে কেবল মানবসেবার মানসিকতা।

মসজিদ কমিটির উদ্যোগে প্রতিদিন অন্তত পাঁচ থেকে ছয় শতাধিক মানুষের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়। পাঁচজন রাঁধুনি মিলে প্রতিদিন প্রায় ৬০ কেজি চালের খিচুড়ি রান্না করেন। এর সঙ্গে থাকে ছোলাভুনা, পেঁয়াজু ও খেজুরসহ বিভিন্ন পদের খাবার।

প্রায় এক যুগ আগে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ জন রোজাদারকে নিয়ে এই উদ্যোগ শুরু হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ব্যাপক পরিসর লাভ করেছে। বর্তমানে মসজিদের মূল কমিটির অধীনে ৩১ সদস্যের একটি ‘ইফতার আয়োজন উপকমিটি’ পুরো কর্মসূচি পরিচালনা করছে। সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়ন এবং সমাজের বিত্তশালীদের অনুদানে মাসব্যাপী এই আয়োজন চলে। কেউ দেন চাল, কেউ ছোলা, কেউ খেজুর বা নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেন।

মসজিদে আগত মুসল্লি থেকে শুরু করে পথচারী কিংবা শ্রমজীবী মানুষ—কারও পরিচয় এখানে মুখ্য নয়। রোজাদার হওয়াই এখানে অতিথি হওয়ার একমাত্র শর্ত। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে বসে ইফতার করেন।

রান্নার কাজে যুক্ত রাঁধুনি কাবিল উদ্দিন জানান, সকাল থেকেই ইফতারের প্রস্তুতি শুরু হয়। তরকারি কাটাকাটি শেষে দুপুরে রান্নার কাজ শুরু করা হয়। তিনি বলেন, প্রতিদিন এত মানুষের জন্য রান্না করতে কষ্ট হলেও ইফতারের সময় রোজাদারদের হাসিমুখ দেখলে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।

ইফতার শেষে অনেক রোজাদার নিজ উদ্যোগে প্লেট পরিষ্কার করে রেখে যান, যা সামাজিক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

ইফতার আয়োজন উপকমিটির সাবেক আহ্বায়ক ইমাম হোসেন বলেন, এই উদ্যোগ সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। ভবিষ্যতেও এই আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

মসজিদ নির্মাণ কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বলেন, রমজান এলেই মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রতিদিন শত শত মুসল্লি একসঙ্গে ইফতার করেন। দিন দিন রোজাদারের সংখ্যা বাড়ছে, এতে কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকেরা আনন্দ নিয়েই কাজ করছেন।

মসজিদ কমিটির আহ্বায়ক ইমান আলী বলেন, তাঁদের লক্ষ্য হলো—কোনো রোজাদার যেন খাবারের অভাবে ফিরে না যান। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।

ইফতার করতে আসা কয়েকজন রোজাদার জানান, এখানে একসঙ্গে বসে ইফতার করার মধ্যে ভিন্ন ধরনের তৃপ্তি রয়েছে। অনেকের পক্ষেই প্রতিদিন এত আয়োজন করা সম্ভব হয় না, তাই এই উদ্যোগ তাঁদের জন্য বড় সহায়।

 

ট্যাগ: শেরপুর
ইবি শিক্ষিকাকে জবাই করে হত্যা ও সারাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শি…
  • ০৭ মার্চ ২০২৬
জাকসুর উদ্যোগে ঈদের ছুটিতে ৪ জেলায় বাসের ব্যবস্থা
  • ০৭ মার্চ ২০২৬
এবার ছাত্রীদের জন্য জাবি শিবিরের বিশেষ আয়োজন, ফের দুর্ভোগ …
  • ০৭ মার্চ ২০২৬
ঢাবি সাংবাদিক সমিতির ইফতারে এক ছাদের নিচে সকল ছাত্রসংগঠন
  • ০৬ মার্চ ২০২৬
৩৫ বছর আগে ছাত্রলীগের হাতে নিহত শিক্ষার্থীর স্মরণে ফুড প্যা…
  • ০৬ মার্চ ২০২৬
শের-ই-বাংলা মেডিকেলে রমাদান সেমিনার ও কুরআন বিতরণ
  • ০৬ মার্চ ২০২৬