চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা আগামীকাল শুক্রবার (২ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এবারের ভর্তিযুদ্ধে প্রতি আসনে লড়বেন ৮০ জন শিক্ষার্থী।
‘এ’ ইউনিটের অধীন রয়েছে চারটি অনুষদ। এগুলো হলো বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদ। চার অনুষদে মোট সাধারণ আসন ১ হাজার ৯৩টি। এই ইউনিটে মোট আবেদন করেছেন ৮৭ হাজার ৬৯৬ পরীক্ষার্থী, সেই হিসাবে আসনপ্রতি ৮০ জন ভর্তিচ্ছু অংশগ্রহণ করবেন।
ইতিমধ্যে ওয়েবসাইটে ভর্তি পরীক্ষার আসনবিন্যাস প্রকাশ করা হয়েছে। প্রবেশপত্রের কিউআর কোড স্ক্যান করেও নিজের আসন দেখতে পারবেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।
ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত বার্তায় বলা হয়েছে, ‘এ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার আসন বিন্যাস প্রকাশ করা হয়েছে। ওয়েবসাইটে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও রাজশাহী অঞ্চলের আলাদা কেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে। আসনবিন্যাস দেখতে প্রবেশপত্রের কিউআর কোডও স্ক্যান করতে বলা হয়েছে।
এ বছর চারটি ইউনিট ও তিনটি উপ–ইউনিট মিলিয়ে ৩ হাজার ৫৯৭টি সাধারণ আসনের বিপরীতে পরীক্ষা হচ্ছে। এর বাইরে ৫৬৮ আসন কোটা হিসেবে বরাদ্দ রয়েছে। এবার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সন্তানদের জন্য পোষ্য কোটা থাকছে না। সেই সঙ্গে এ বছর ভর্তি পরীক্ষার ফলের সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের জিপিএ যুক্ত হবে না। আগের তুলনায় ভর্তিতে কমানো হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ আসন সংখ্যা। পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষায় থাকছে না শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সন্তানের জন্য ‘পোষ্য কোটা’। এ ছাড়া এ বছর ভর্তি পরীক্ষার ফলের সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের জিপিএ যুক্ত হবে না। এবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৫ শিক্ষার্থী।
ভর্তি যোগ্যতা
এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’ ইউনিটে আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক (চতুর্থ বিষয়সহ) মিলিয়ে মোট জিপিএ-৮ নির্ধারণ করা হয়। গত বছর ছিল ৮ দশমিক ৫। এই ইউনিটে আবেদন করতে আলাদাভাবে মাধ্যমিকে ন্যূনতম জিপিএ-৪ ও উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ-৩ নির্ধারণ করা হয়। গত বছর ছিল দুটিতে ন্যূনতম জিপিএ-৩ দশমিক ৫ করে।
মানবণ্টন
সব ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা মোট ১০০ নম্বরের। এর মধ্যে বহুনির্বাচনি পদ্ধতিতে ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে। ডি-১ উপ-ইউনিট বাদে সব ইউনিটেই পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর হবে ৪০। ডি-১ উপ-ইউনিট পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর হবে ৩৫।
‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে ২৫, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত ও জীববিদ্যা প্রতিটিই ২৫ নম্বর করে (শিক্ষার্থীদের যেকোনো তিনটি বিষয়ে উত্তর দিতে হবে) থাকবে।
‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা বা ঐচ্ছিক ইংরেজিতে ৩০, ইংরেজিতে ৩০, সাধারণ জ্ঞানে ৪০ নম্বর থাকবে। পাস করতে হলে আলাদাভাবে বাংলায় ন্যূনতম ৭, ইংরেজিতে ৬ ও সাধারণ জ্ঞানে ১৩ নম্বর পেতে হবে। ‘বি-১’ উপ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা বা ঐচ্ছিক ইংরেজিতে ২৫, ইংরেজিতে ২৫, সাধারণ জ্ঞানে ৫০ নম্বর থাকবে। এ ছাড়া আলাদাভাবে বাংলায় ন্যূনতম ৫, ইংরেজিতে ৬ আর সাধারণ জ্ঞানে ১৭ নম্বর পেতে হবে। ‘বি-২’ ইউনিটে বাংলা বা ঐচ্ছিক ইংরেজিতে ২০, ইংরেজিতে ২০, আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ, বুড্ডিস্ট স্টাডিজ ও পালি এবং সাধারণ জ্ঞানে (যেকোনো দুটি বিষয় উত্তর দিতে হবে) ৬০ নম্বর থাকবে। এ ছাড়া আলাদাভাবে বাংলায় ন্যূনতম ৫, ইংরেজিতে ৫, আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজে, বুড্ডিস্ট স্টাডিজ ও পালি ১২ আর সাধারণ জ্ঞানে ৯ নম্বর পেতে হবে।
‘সি’ ইউনিটে ইংরেজিতে ৪০, বিশ্লেষণ দক্ষতায় ৩০ ও সমস্যা সমাধান অংশে ৩০ নম্বর থাকবে। এ ছাড়া আলাদাভাবে ইংরেজিতে ১৩, বিশ্লেষণ দক্ষতা ও সমস্যা সমাধান অংশে ১০ নম্বর পেতে হবে।
‘ডি’ ইউনিটে বাংলা বা ঐচ্ছিক ইংরেজিতে ৩০, ইংরেজিতে ৩০, বিশ্লেষণ দক্ষতায় ২০, সাধারণ জ্ঞান, গণিত বা অর্থনীতিতে ২০ নম্বর থাকবে।
‘ডি-১’ উপ-ইউনিটে বাংলা বা ঐচ্ছিক ইংরেজিতে ৩০, ইংরেজিতে ৩০, সাধারণ জ্ঞানে ২৫, গেমস ও স্পোর্টসের নীতিমালায় ১৫ নম্বর থাকবে।
পরীক্ষার সূচি
২ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে। এ ছাড়া ৩ জানুয়ারি ‘ডি’ ইউনিট, ৯ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিট ও ১০ জানুয়ারি ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে। অন্যদিকে ৫ জানুয়ারি ডি-১, ৭ জানুয়ারি ‘বি-১’ ও ৮ জানুয়ারি ‘বি-২’ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।