বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার আলোচনা শুরু হয়েছে © টিডিসি সম্পাদিত
এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কারণ এতে ভালো করার ওপর নির্ভর করে তাদের তাদের উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার। ফলে এ পরীক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মাঝের সময়টি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এইচএসসির পরে যার প্রস্তুতি যত ভালো পরিকল্পিত হবে, তার ভালো বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় পাওয়ার সুযোগও ততো বাড়বে।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য সময়সীমাও প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে শুরু হবে রমজান মাসও। সে কারণে নির্বাচন ও রমজানের আগেই ভর্তি কার্যক্রম শেষ করতে চায় শীর্ষস্থানীয় অনেক বিশ্ববিদ্যালয়। সে লক্ষ্যে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই সময়সীমা চূড়ান্ত করতে পারেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি মাসের শেষ দিকে আবেদন শুরু হলে নভেম্বর শেষ দিকে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হতে পারে। এরইমধ্যে এইচএসসির পরীক্ষার পর দেড় মাসের বেশি সময় পার হয়েছে। গত ১৯ আগস্ট পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর অনেকে কোচিংয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেক্ষেত্রে সর্বনিম্ন তিন মাস সময় পাচ্ছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। মেডিকেল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নভেম্বর শেষ থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এরইমধ্যে বুয়েট ও বিইউপিরও ভর্তি পরীক্ষা হবে।
সব মিলিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ভর্তির জন্য চার মাসের বেশি সময় পাবেন ভর্তিচ্ছুরা। আর রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা জানুয়ারির মধ্যে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সকালে হলে বিকেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিতে দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি গুচ্ছে না গেলে এবারও ঢাবির সঙ্গে একই দিনে তাদের পরীক্ষা হতেও পারে, কিংবা পৃথক দিনে। এরইমধ্যে হতে পারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাও।
সবমিলিয়ে ওপরে উল্লেখিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ভর্তির জন্য পাঁচ মাস পর্যন্ত সময় পাবেন শিক্ষার্থীরা। এরইমধ্যে শুরু হবে নির্বাচনের ডামাডোল। সরকারের ঘোষিত ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন আয়োজন হলে রাজনৈতিক দলগুলো সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে জড়িয়ে পড়বেন। রাষ্ট্রযন্ত্রও এতে ব্যস্ত থাকবে। সেক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন কঠিন হবে।
এসব বিবেচনায় বলা চলে, ফেব্রুয়ারির আগে ওপরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাইরে অন্য প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এমনকি ওপরের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একাধিকের পরীক্ষা জানুয়ারির ভেতরে আয়োজন সম্ভব নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে সাধারণ ও কৃষি গুচ্ছসিহ তিন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, সাধারণ গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে যাওয়া পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একাধিক, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নির্বাচন ও রমজানের পরে হবে বলে ধারণা করা যায়।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে ভর্তি পরীক্ষা হতে পারে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের, পরে নেবে যারা
নির্বাচন ও রমজানের সময় ধরলে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাস পার হতে পারে। সেক্ষেত্রে এপ্রিল ও মে মাস ভর্তি পরীক্ষার জন্য ব্যস্ত থাকতে হবে শিক্ষার্থীদের। ফলে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য সাত মাসের বেশি সময় পাচ্ছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। সবমিলিয়ে নির্বাচনের আগে ও পরে ভালো অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন তারা।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল চলতি অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশ হবে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘উত্তরপত্র দেখার কাজ চলছে। আশা করছি, ১৯ অক্টোবরের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে পারব।’ এ ফলাফল প্রকাশের পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
চলতি মাসেই ফলাফল প্রকাশ হলে শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রস্তুতি নেওয়াটা আরও পরিকল্পিত হবে। তখন তারা ফলাফলের ওপর কত স্কোর পাচ্ছেন, সে বিষয়েও ধারণা পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য সর্বনিম্ন তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ সাত-আট মাস পর্যন্ত সময় পাবেন ভর্তিচ্ছুরা। ফলে এখন থেকেই সময় নষ্ট না করে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নিলে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের বিষয়ে নিজের জন্য একটি আসন নিশ্চিত করতে পারবেন।
এইচএসসি পরীক্ষা পর এ সময়টি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্থ। সে হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ধরন অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে তাদের। সঠিকভাবে এগোতে পারলে সবকিছু সহজ হয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি রাখতে হবে আত্মবিশ্বাসও। তাহলেই মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথে একধাপ এগিয়ে যাওয়া যাবে। সবার জন্য সামনে অপেক্ষা করছে উজ্জ্বল একটি ক্যারিয়ারও।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী