ছুটির ঘণ্টার পরিবর্তে ক্লাস শেষে সময় জানাবে এআই © এই সময়
স্কুলে ছুটির ঘণ্টা বাজলেই মন উড়ে যায় নিরুদ্দেশে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে, উল্লাস করতে করতে কচিকাঁচাদের ছোটাছুটির দৃশ্য। বয়স যাই হোক না কেন, ছাত্রাবস্থায় সবারই প্রিয় ছিল স্কুলের ছুটির ঘণ্টার শব্দ ঢং ঢং। সঙ্গিতশিল্পী শিলাজিতের গান ‘বাজল ছুটির ঘণ্টা’ আজও অনেকের প্লে-লিস্টে উজ্জ্বল। তবে এখন থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের দুটি স্কুলে আর কোনোদিন ছুটির ঘণ্টা বাজবে না। শোনা যাবে না ঢং ঢং শব্দ।
প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে চিরতরে ছুটি নিচ্ছে ছুটির ঘণ্টা। তার বদলে শোনা যাবে এক মহিলা-কণ্ঠ। তবে রক্তমাংসের মানুষ নয়, এআই মানবী। এখন থেকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ওই কণ্ঠই জানিয়ে দেবে সময়। জানিয়ে দেবে পিরিয়ড শেষ হলো। এমনকী ছুটি হলে এআই কণ্ঠই পড়ুয়াদের শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বাড়ি যাওয়ার পরামর্শ দেবে।
আলিপুরদুয়ারের জটেশ্বর হাইস্কুল ও জটেশ্বর গার্লস হাইস্কুল থেকে চিরতরের জন্য তুলে দেওয়া হয়েছে ঘণ্টা। তার বদলে আনা হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা। লোকাল ট্রেন, মেট্রোরেল কিংবা বন্দে ভারতের মতো ট্রেনে যেভাবে পরবর্তী স্টেশন কোনটি, তার আগাম ঘোষণা হয়ে যায়, ঠিক সেভাবেই স্কুলে পিরিয়ড শেষ হওয়া, মিড-মিলের সময় হওয়া কিংবা ছুটির ঘোষণা করা হবে।
দুটি স্কুলই জায়গার দিক থেকে অনেক বড়। তাই শ্রেণিকক্ষগুলিতে যাতে স্বয়ংক্রিয় ঘোষণা স্পষ্টভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তার জন্য স্কুলের আনাচেকানাচে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে মাইক। অ্যাপ-নির্ভর সাউন্ড সিস্টেমে বোতাম টিপলেই আওয়াজ ছড়িয়ে পড়বে গোটা স্কুলে। কী বলবে ওই মানবী-কণ্ঠ?
স্কুলের শুরুতে প্রার্থনার জন্য পড়ুয়াদের ডাকা হবে এভাবে, ‘এখন তোমাদের প্রার্থনা শুরু হবে, তোমরা মাঠে চলে যাও।’ পিরিয়ড শেষ হলে মানবী-কণ্ঠ বলবে, ‘প্রথম পিরিয়ড শেষ হলো। শুরু হবে দ্বিতীয় পিরিয়ড।’ ছুটির সময়ে শোনা যাবে, ‘এখন স্কুল ছুটি হচ্ছে। তোমরা সবাই নিয়মশৃঙ্খলা মেনে বাড়ি চলে যাবে।’ একেবারে ঘড়ি ধরে বেজে উঠবে ‘অটোমেটিক অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম’।
আরও পড়ুন: মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় বসছে লেবানন
এতদিনের সাবেকি ঘণ্টা-পদ্ধতি ছেড়ে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকল কেন ওই দুটি স্কুল? এর নেপথ্যে রয়েছে কর্মী-সঙ্কটের কাহিনী। জটেশ্বর গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সোমা দে বলেন, ‘২০১৬ সালে শিক্ষাকর্মীদের বরখাস্ত করে দেওয়ার ফলে শুধু আমাদের এখানে নয়, আরও বহু স্কুলে কর্মী-সঙ্কট দেখা দেয়। স্কুলের নিজস্ব তহবিল থেকে আমরা চুক্তিভিত্তিতে কয়েক জন কর্মী নিয়োগ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তাতে সমস্যা মেটেনি। উল্টে বেড়ে যায়। একটা সময়ে তহবিলে টান পড়তে শুরু করে।’
এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজছিলেন তাঁরা। সোমার কথায়, ‘জটেশ্বর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ওই অটোমেটিক অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেমের প্রস্তাব দিতেই আমরা সেটা লুফে নিই।’
এর আগে কলকাতা, মেদিনীপুরের বেশ কয়েকটি সরকারি স্কুলে এমন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তবে আলিপুরদুয়ার তথা উত্তরবঙ্গে এটিই প্রথম। জটেশ্বর হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অমিতকুমার দত্ত বলেন, ‘মেদিনীপুরের একটি স্কুলে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় ঘোষণা পদ্ধতির কথা জানতে পেরে আমাদের স্কুল পরিচালন সমিতির কাছে প্রস্তাব রেখেছিলাম। তাঁরা বিষয়টি শোনামাত্র আমাদের অনুমতি দিয়ে দেন।’
ইতিমধ্যেই দুই স্কুলে সবকিছু ইনস্টল হয়ে গিয়েছে। এ অভিনব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে পড়ুয়ারা। খুশি অভিভাবকরাও। জানা গেছে, ‘অটোমেটিক অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম’র খরচ বহন করার জন্য স্কুলের নিজস্ব তহবিল থেকে কিছু অর্থ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিচালন সমিতির সদস্য এবং শিক্ষকরা অল্প অল্প করে সাহায্য করেছেন। খবর: এই সময়।