সৌদিতে যুদ্ধবিমান পাঠাল পাকিস্তান © সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নিরসনে পাকিস্তানে যখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান ও অতিরিক্ত সামরিক বাহিনী পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান এবং সাপোর্ট এয়ারক্রাফটগুলো দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কিং আব্দুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছেছে। এই মোতায়েনের মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানি হামলার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নিয়েছে ইসলামাবাদ। বিশেষ করে গত সোমবার সৌদি আরবের বিশাল জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ইরানের হামলার ঘটনায় একজন সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
তিনটি পৃথক সূত্র জানিয়েছে, ওই হামলার পর সৌদি আরব পাল্টা আঘাত হানতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে পাকিস্তান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ছিল। কারণ এতে চলমান শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো। মূলত রিয়াদকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিতে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো হামলা থেকে দেশটিকে রক্ষা করতেই পাকিস্তান এই সামরিক সহায়তা পাঠিয়েছে। তবে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে পাকিস্তানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সেনারা কাউকে ‘আক্রমণ করার জন্য’ সেখানে যায়নি।
রিয়াদ ও ইসলামাবাদের এই পদক্ষেপকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশ দুটি একটি বিশেষ ‘যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির আওতায় যেকোনো এক দেশের ওপর আক্রমণকে উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার অঙ্গীকার করা হয়, যা কয়েক দশকের পুরনো নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করেছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও উপদেষ্টা নিয়োগের মাধ্যমে সহায়তা দিয়ে আসছে। এর বিপরীতে অর্থনৈতিক সংকটের সময় সৌদি আরবও বারবার পাকিস্তানকে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রতি অর্থনৈতিক সমর্থন প্রদর্শনের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার সৌদি অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান পাকিস্তান সফর করেন। এর আগে ২০১৮ সালেও রিয়াদ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৩ বিলিয়ন ডলার জমা রাখা এবং ৩ বিলিয়ন ডলারের তেল সরবরাহ স্থগিত পরিশোধ সুবিধার আওতায় মোট ৬ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই সামরিক মোতায়েন বিশেষ তাৎপর্য বহন করলেও এ বিষয়ে সৌদি সরকারি মিডিয়া অফিস বা পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।