হোটেল সেরেনা © সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ৩৯ দিনব্যাপী সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল শান্তি আলোচনার ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ইসলামাবাদের বিলাসবহুল সেরেনা হোটেলকে। পাকিস্তানের রাজধানী অন্যতম সুরক্ষিত এই স্থাপনাটি এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
২০০৮ সালে এই হোটেলের নিকটবর্তী ম্যারিয়ট হোটেলে ভয়াবহ হামলার স্মৃতি অনেকের মনে এখনো জীবন্ত, তবুও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেরেনার কৌশলগত অবস্থান এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই এটিকে আলোচনার জন্য সেরা জায়গা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
প্রায় ১৫ একর (৬ হেক্টর) জমির ওপর নির্মিত এই হোটেলে ৪০০টিরও বেশি কক্ষ, একাধিক ব্যাংকুয়েট হল এবং কনফারেন্স রুম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রায় ১৫০ জনের বিশাল প্রতিনিধি দলের আবাসন এবং গোপনীয়তা রক্ষার জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, হোটেলের ভেতর ও বাইরে কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
পাকিস্তানের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, সেরেনা হোটেলের নিরাপত্তা এত শক্তিশালী হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, এর কৌশলগত অবস্থান। হোটেলটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংসদ ভবন এবং কূটনৈতিক জোনের খুব কাছে অবস্থিত, যা উচ্চপদস্থ অতিথিদের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ করে।
দ্বিতীয়ত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা; ইসলামাবাদের সাবেক পুলিশ প্রধান তাহির আলম খান জানান, এই হোটেলের নিরাপত্তা কর্মীরা অত্যন্ত দক্ষ এবং তাদের বেশিরভাগই অবসরপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
এই হোটেলের বহুস্তরীয় তল্লাশি ব্যবস্থার কারণে হোটেলটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। যেখানে প্রবেশ ও প্রস্থান পথগুলো মূল ভবন থেকে অনেকটা দূরে হওয়ায় যেকোন ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা সহজ। এছাড়া রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বক্ষণিক সমন্বয় রয়েছে।
সেরেনার মনোরম স্থাপত্য এবং সুন্দর বাগান দেখে শান্ত মনে হলেও, ভেতরে এখন চলছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী তুমুল বিতর্ক। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এখন এখানেই সরাসরি সংলাপে অংশ নিচ্ছেন। কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখতে হোটেল এলাকায় সাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে এবং বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।