প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আজকের (শনিবার) উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসনে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এই বিষয়গুলোর সুরাহা হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১. হরমুজ প্রণালী ও জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ
বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই পথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান এই জলপথের ওপর তাদের পূর্ণ কর্তৃত্বের স্বীকৃতি চায় এবং সেখান দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর ট্রানজিট ফি বা টোল আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যৌথভাবে টোল নির্ধারণের একটি ‘জয়েন্ট ভেঞ্চার’ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
২. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক কর্মসূচি
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে আগ্রহী নয়, তবে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারের স্বীকৃতি চায়। দশকের পর দশক ধরে চলে আসা এই বিরোধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। এই পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই মূলত ইরানের ওপর বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
৩. লেবানন ও হিজবুল্লাহ প্রসঙ্গ
চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চায় ইরান। গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২,০০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তেহরান চায় এই ধ্বংসলীলা বন্ধ হোক। তবে ইসরায়েলের দাবি, এই যুদ্ধবিরতি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ফলে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে, যা আলোচনার টেবিলে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৪. অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
ইরান তাদের অর্থনীতির ওপর চেপে বসা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো পুরোপুরি তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। শান্তি আলোচনার অন্যতম শর্ত হিসেবে তেহরান এই নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিল করা ও বাজেয়াপ্ত সম্পদ পুনরায় ইরানকে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ইতোমধ্যে ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন সমতুল্য বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফিরিয়ে দিতে সম্পদ ফিরিয়ে দিকে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে বেশ কিছু সুত্র। যদিওেএ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র।
৫. স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা
দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির বাইরে গিয়ে ইরান একটি স্থায়ী সমাধান এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায়। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এই মর্মে গ্যারান্টি দাবি করেছে যে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আর কখনোই ইরানের ওপর হামলা চালাবে না। এই নিশ্চয়তা পেলে ইরান দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পথে হাঁটতে আগ্রহী বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইসলামাবাদের এই আলোচনায় এই পাঁচটি জটিল বিষয়ের সমাধান কতটা আসবে, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা। উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকলেও কূটনৈতিক উপায়ে একটি মধ্যস্থতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।