ইরানে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে চীন

১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০১ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই তেহরানে নতুন প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বেইজিং এই সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরের আগে বেইজিংয়ের এমন পদক্ষেপকে অত্যন্ত ‘উস্কানিমূলক’ হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিং মূলত কাঁধে বহনযোগ্য বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বা ‘ম্যানপ্যাডস’ হস্তান্তরের পরিকল্পনা করছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বেইজিং এই চালানের প্রকৃত উৎস আড়াল করতে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এগুলো পাঠানোর চেষ্টা করছে। পাঁচ সপ্তাহব্যাপী চলা যুদ্ধে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র স্বল্প উচ্চতায় উড়ন্ত মার্কিন সামরিক বিমানের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছিল। গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধবিরতির এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি অংশীদারদের সহায়তায় তাদের অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূর্ণ করছে।

তবে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। দূতাবাসের এক মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, ‘চীন কখনোই কোনো সংঘাতের কোনো পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করেনি; এই তথ্যটি সত্য নয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘একটি দায়িত্বশীল বড় দেশ হিসেবে চীন সব সময় তার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পালন করে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে ভিত্তিহীন অভিযোগ না করা, ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পর্ক জোড়া লাগানো এবং অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।’

চীন বারবার দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা সংঘাত অবসানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে, গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সম্প্রতি ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি একটি তাপ-অনুসন্ধানী কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। ইরানও একটি ‘নতুন’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও সেটি চীনা প্রযুক্তিতে তৈরি কি না, তা স্পষ্ট করেনি। 

বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি চীনা সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের অস্ত্র হস্তান্তর করা হলে তা ইরানকে সমর্থনের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের অবস্থানের একটি বড় ধরনের পরিবর্তন বা ‘এস্কেলেশন’ হিসেবে গণ্য হবে। যদিও চীন যুক্তি দিতে পারে যে, এই ব্যবস্থাগুলো কেবলই প্রতিরক্ষামূলক, আক্রমণাত্মক নয়।

আগামী মাসের শুরুতে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, চীন সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার চেয়ে নিজেকে ইরানের দীর্ঘমেয়াদী বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় এবং বাহ্যিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে আগ্রহী। 

দীর্ঘদিন ধরেই ড্রোন ও তেলের বিনিময়ে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে শক্তিশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে ইরান। যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা ইরানের
  • ১১ জুন ২০২৬
সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও বিইউপির গুরুত্বপূর্ণ পদে ১৫ কর্মকর্ত…
  • ১১ জুন ২০২৬
পর্তুগালের জয়ের রাতে কাঠগড়ায় রোনালদো, গোল মিসের মহোৎসব
  • ১১ জুন ২০২৬
অনার্স প্রথমবর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়ল
  • ১১ জুন ২০২৬
অনার্স প্রথমবর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়ল
  • ১১ জুন ২০২৬
এক মাসে ১ কোটি ৫৯ লাখ ভাতাভোগীকে ২৪০০ কোটি টাকা বিতরণ নগদের
  • ১১ জুন ২০২৬
×