ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই © সংগৃহীত
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ম্যারাথন আলোচনা শেষে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, মাত্র একটি বৈঠকেই কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রত্যাশা কেউ করেনি। রবিবার (১২ এপ্রিল) মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যের পর ইরানি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
বাঘাই উল্লেখ করেন, দীর্ঘ আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু বিষয়ে ‘একমত’ বা একটি সাধারণ সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে, তবে এখনও ২ থেকে ৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: যে দুই শর্ত নিয়ে মতবিরোধে ঝুলে গেল ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা
আলোচনার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘এই আলোচনা এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে যখন আমরা ৪০ দিনের একটি চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। ফলে পুরো আলোচনার পরিবেশ ছিল অবিশ্বাস ও সন্দেহে ঘেরা। এমন বৈরী পরিবেশে প্রথম বৈঠকেই কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছে যাওয়া যাবে—শুরু থেকেই এমন প্রত্যাশা করা স্বাভাবিক ছিল না এবং কেউ তা আশাও করেনি।’
এর আগে বাঘাই জোর দিয়ে বলেছিলেন, এই আলোচনার সফল হওয়া সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে বিপরীত পক্ষের (যুক্তরাষ্ট্রের) আন্তরিকতা, সদিচ্ছা এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিবাদমান কয়েকটি বড় ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান এখনও ভিন্ন হলেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে সমঝোতার আভাস পাওয়া গেছে। তবে স্থায়ী কোনো চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনড় অবস্থান ও অবিশ্বাস দূর করা জরুরি বলে মনে করে ইরান। বর্তমানে দুই দেশই তাদের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের জন্য আলোচনার টেবিল থেকে প্রাপ্ত খসড়াগুলো পর্যালোচনা করছে।